ভূঞাপুরে বন্যায় কৃষকের লোকসান ৫ কোটি ১৮ লাখ টাকা

ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: প্রকাশিত: আগস্ট ১, ২০২৪, ০১:২৫ পিএম

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে চলতি বছরের বন্যায় ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে উপজেলার চরাঞ্চল ও যমুনা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের কৃষকেরা। আউশ ধান, পাট, তিল ও বিভিন্ন ধরনের সবজি পানিতে তলিয়ে পচে নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতার  সৃষ্টি হওয়ায় এখনও পানির নিচে রয়েছে অনেক ফসল। এতে উপজেলায় ক্ষতির পরিমাণ গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ১৮ লাখ ৬৭ হাজার টাকা।

এনজিও থেকে ঋণের চাপ অন্যদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা এখন নিঃস্ব। এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠে ঘুরে দাঁড়াতে সরকারিভাবে সহযোগিতা চেয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।

সরজমিনে দেখা যায়, চলতি বন্যায় ভূঞাপুর উপজেলার গাবসারা, অর্জুনা, নিকরাইল ও গোবিন্দাসী ইউনিয়নের চরাঞ্চল সহ নিম্নাঞ্চলে কৃষি খাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পানি নেমে যাওয়ার পর ফসলের ধ্বংসাবশেষ বেড়িয়ে এসেছে। পচে যাওয়া ফসল এখন উচ্ছিষ্ট বস্তুতে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় অনেক কৃষকের স্বপ্ন এখনও পানির নিচে রয়েছে।

উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে- ৩ হাজার ২০০ জন কৃষকের ৫২৭ হেক্টর জমির আউশ ধান, পাট, তিল ও সবজি পচে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে ক্ষতির পরিমাণ গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ১৮ লাখ ৬৭ হাজার টাকা।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান- প্রতি বছর বন্যার আমাদের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এবছর কয়েক দফার বন্যায় আউশ ধান, পাট, তিল ও সবজি পানিতে তলিয়ে পচে নষ্ট হয়ে গেছে। এর ফলে আমরা আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। সরকারের সহযোগিতা পেলে আমরা এই ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে উঠতে পারবো।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মোখলেছুর রহমান বলেন- এবছর বন্যায় উপজেলায় ৫২৭ হেক্টর জমির আউশ ধান, পাট, তিল ও সবজি পচে নষ্ট হয়ে গেছে। এর ফলে কৃষকের ৫ কোটি ১৮ লাখ ৬৭ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনাসহ সব ধরনের সহযোগিতার দেওয়া হবে। আমাদের মাঠ পর্যায়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে মাঠ পর্যায়ে গিয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।

বিআরইউ