পানিবন্দি সুবর্ণচরবাসী, সমাধানে উদাসীন কর্তৃপক্ষ

সুবর্ণচর (নোয়াখালী) প্রতিনিধি: প্রকাশিত: আগস্ট ২০, ২০২৪, ০৬:১৪ পিএম

টানা বৃষ্টিতে পানিবন্দি সুবর্ণচরের অধিকাংশ জনপদ। ডুবে গেছে রাস্তা ঘাট, পুকুর, খাল ও ঘর বাড়ি। খাল দখল ও অপরিকল্পিত মৎস্য প্রজেক্টকে দায়ী করছেন জনতা। পানি নিষ্কাশনে ধীর পদক্ষেপ উপজেলা প্রশাসনের। আমন বীজতলা নষ্ট হয়ে আমন চাষে ধ্বংস নামার সম্ভাবনা। বিদ্যুৎ, নিরাপদ পানি ও খাদ্য সংকটে অধিকাংশ গ্রাম৷ দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক হিমশিম শর্তেও দ্রুত পদক্ষেপ দাবি এলাকাবাসীর।

স্বৈরাচার বিদায়ের ঘনঘটা বাজতেই বৃষ্টির প্রকোপ বাড়তে শুরু করে দেশব্যাপী৷ টানা একমাসেরও বেশি সময় ধরে চলছে বৃষ্টি। স্বৈরাচার বিদায় নিলেও বিদায়ের সম্ভাবনা নেই বৃষ্টির। সারাদেশের মতো নোয়াখালীর সুবর্ণচর প্লাবিত হয়েছে অতিবৃষ্টিতে। অধিকাংশ মানুষ ঘরবন্দি জীবন যাপন করছেন। গেল একযুগেও এমন বৃষ্টি হয়নি বলে জানিয়েছে সুবর্ণচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ। অতিবৃষ্টিতে আমন বীজতলা নষ্ট হয়ে আমন চাষে ধ্বংস নামার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও মন্তব্য তার। আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে, সোমবার ভোর ৬টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ১৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

অবৈধভাবে খাল দখল করে দোকান নির্মাণ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের খাল খননে চরম দুর্নীতি ও বিত্তশালীদের অপরিকল্পিত মৎস্য প্রজেক্টের ফলে সুবর্ণচর আজ পানিবন্দি বলে মন্তব্য করেছেন সুবর্ণচরের চরওয়াপদা ইউনিয়নের চরবৈশাখী গ্রামের মো. আমির হোসেন।  তিনি আরও বলেন, বৃষ্টির অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় তার পুকুরের মাছসহ তিন একর আমন চাষ ব্যাহত হচ্ছে।

টানা বৃষ্টিতে সুবর্ণচরে জলাবদ্ধতা নিরসনে জেলা প্রশাসনের করণীয় সম্পর্কে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান বলেন, সকলের সহযোগিতায় আমরা জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করছি। ইতোমধ্যে বিভিন্ন অবৈধ বাঁধ কেটে পানি স্বাভাবিক করার কাজ শুরু হয়েছে। বৃষ্টিপাত কমে গেলে পানি কমে যাবে। এছাড়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে আশ্রয় দেয়ার জন্য উপজেলা পর্যায়ের সকল মাধ্যমিক, প্রাথমিক প্রতিষ্ঠান ও মাদরাসাসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বলা হয়েছে। যেখানে যে সহযোগিতা প্রয়োজন আমরা তা করছি।

বিআরইউ