জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানকে আধুনিকায়ন ও দর্শনার্থীদের প্রবেশ প্রক্রিয়াকে সহজ, স্বচ্ছ ও পরিবেশবান্ধব করতে উদ্বোধন করা হয়েছে অত্যাধুনিক ই-টিকিটিং প্ল্যাটফর্ম।
বুধবার সকালে রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্ল্যাটফর্মের উদ্বোধন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ।
বিশেষ অতিথি ছিলেন এটুআই এর প্রকল্প পরিচালক (যুগ্মসচিব) মো. আব্দুর রফিক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে বন অধিদপ্তর, এটুআই, আইসিটি বিভাগ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল হার্বেরিয়াম, জাতীয় চিড়িয়াখানা এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী ও পরিবেশকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বন অধিদপ্তর ও এটুআই-এর যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত এই ই-টিকিটিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দর্শনার্থীরা এখন ঘরে বসেই অনলাইনে টিকিট ক্রয় করে নির্ধারিত তারিখে উদ্যান পরিদর্শন করতে পারবেন। এতে লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা কমবে, সময় বাঁচবে এবং পুরো প্রক্রিয়া হবে স্বচ্ছ। পাশাপাশি কাগজের ব্যবহার কমে যাওয়ায় পরিবেশ সংরক্ষণেও ভূমিকা রাখবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ড. ফারহিনা আহমেদ বলেন, প্রাকৃতিক বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টিতে এই আধুনিক উদ্যোগ বিশেষ ভূমিকা রাখবে। ই-টিকিটিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বাংলাদেশে স্মার্ট সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনার নতুন অধ্যায় সূচিত হলো।
তিনি দেশের অন্যান্য পরিবেশগত গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও একই ধরনের ই-টিকিটিং ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষ অতিথি এটুআই-এর প্রকল্প পরিচালক মো. আব্দুর রফিক বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে এটুআই সরকারি সেবাসমূহকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করছে। উদ্ভিদ উদ্যানের এই ই-টিকিটিং প্ল্যাটফর্ম সরকারি ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রমের একটি মাইলফলক।
অনুষ্ঠানের সভাপতি বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন, জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যেই এই প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে। টেকসই বন ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সংরক্ষণে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বন অধিদপ্তরের রাজস্ব সংগ্রহে গতি আসবে এবং উদ্যান ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। দর্শনার্থীরা এখন মাইগভ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, www.nbg.portal.gov.bd অথবা বন অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট থেকে কিউআর কোড সম্বলিত টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন, যা স্মার্টফোন বা প্রিন্ট আকারে ব্যবহারযোগ্য হবে।
বক্তারা বলেন, জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান শুধু একটি বিনোদনকেন্দ্র নয়— এটি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
এই ডিজিটাল পদক্ষেপ সরকারি সেবাকে আরও নাগরিকবান্ধব ও পরিবেশ-সচেতন করার পথে একটি মাইলফলক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হবে।
জেএইচআর