তারেক রহমানের ট্রাভেল পাস আবেদন হয়নি এখনো: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২, ২০২৫, ০৪:৪০ পিএম

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে জল্পনা কল্পনা দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। যুক্তরাজ্যে প্রায় দেড় দশক ধরে অবস্থান করা এই নেতার প্রত্যাবর্তন নিয়ে দলের ভেতরে-বাইরে আলোচনা তীব্র। 

এ বিষয়ে সরকারের সর্বশেষ অবস্থান জানাতে গিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন জানিয়েছেন তারেক রহমান এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশে ফেরার জন্য কোনো ধরনের ‘ট্রাভেল পাস’ আবেদন করেননি।

মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উনি (তারেক রহমান) আবেদন করলেই ট্রাভেল পাস ইস্যু করা হবে। আমাদের প্রক্রিয়া প্রস্তুত থাকে। কিন্তু আমার জানা মতে তিনি এখনো কোনো আবেদন করেননি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার এই বিষয়ে কোনো বাধা তৈরি করছে না। বরং আবেদন এলেই নিয়ম অনুসারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে মন্ত্রণালয়।

তারেক রহমান বর্তমানে কোন ধরনের ভ্রমণ নথি বহন করছেন এবং তার বাংলাদেশের প্রচলিত পাসপোর্ট বৈধ আছে কি না বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, তার পাসপোর্টের বর্তমান অবস্থা কী, সেটা আমি সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারব না।

সরকারি এই মন্তব্যে বিষয়টি আরও অস্পষ্ট হয়ে গেলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাভেল পাস দেওয়া হয় তখনই যখন কোনো ব্যক্তি দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং তার ভ্রমণ নথি হারিয়ে গেলে বা মেয়াদোত্তীর্ণ হলে। যেহেতু তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অনুরোধ জানাননি, তাই এ নিয়ে মন্ত্রণালয়ের টেবিলে আনুষ্ঠানিক কোনো ফাইলও খোলা হয়নি।

এর আগে তারেক রহমান গণমাধ্যমে মন্তব্য করেছিলেন দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত তাঁর একার হাতে নেই। রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দলের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত এবং আইনগত প্রক্রিয়ার সমন্বয়েই ফেরা সম্ভব হবে কি না তা নির্ধারিত হবে।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্য সেই ইঙ্গিতকেই আরও স্পষ্ট করেছে। তিনি বলেছেন, তার দেশে ফেরার বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা বা অনুরোধ নেই। সিদ্ধান্ত পুরোপুরি তার এবং তার দলের ওপর নির্ভর করে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিতে পারবে কি না এই প্রশ্নেও সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, যদি চিকিৎসকেরা সুস্পষ্টভাবে বলেন, বিদেশে নেওয়া প্রয়োজন; আর দলও মত দেয় তাহলে সরকারের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি আছে।

এই মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ দীর্ঘদিন ধরে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ইস্যুতে বিএনপি সরকারের ওপর ‘মানবিকতা প্রদর্শনে ব্যর্থতার’ অভিযোগ তুলেছিল। পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্য সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

২০০৮ সালের পর থেকে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন তারেক রহমান। আদালতের মামলাসহ নানা কারণে তার দেশে ফেরা রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল বিষয় হয়ে আছে। 

ইএইচ