তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও সচিব মাহবুবা ফারজানার নীতি নির্দেশনায়, ডিজি খালেদা বেগমের নেতৃত্বে সুনামের সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনা, দেশের গণমাধ্যম ও প্রকাশনা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক কাঠামোর আওতায় এনে সরকারের নীতি, উন্নয়ন বার্তা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর (ডিএফপি)।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম এবং সচিব মাহবুবা ফারজানা এর নীতি নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে অধিদপ্তরটি সাম্প্রতিক সময়ে আরও গতিশীল, সুশৃঙ্খল ও আধুনিক রূপে এগিয়ে চলছে। আর সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনায় অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খালেদা বেগম গড়ে তুলেছেন কর্মশৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও দক্ষতার অনুকরণীয় পরিবেশ।
সরকারের বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানটির কর্মপরিধি বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক। উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের প্রচার থেকে শুরু করে সংবাদপত্র নিবন্ধন, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ, সরকারি বিজ্ঞাপন বিতরণ, প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ ও প্রকাশনা, ডিএফপি প্রতিটি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সেবা দিয়ে আসছে।
চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো দেশের সংবাদপত্র ও সাময়িকীগুলোর নিবন্ধন, তথ্য হালনাগাদ ও প্রচার সংখ্যা (সার্কুলেশন) যাচাই বাছাই করা। এর মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমগুলোকে একটি নীতিমালা নির্ভর কাঠামোর আওতায় আনার পাশাপাশি সঠিক তথ্যসংগ্রহ নিশ্চিত করা হয়। ডিএফপির নিবন্ধন শাখা নিয়মিতভাবে নতুন সংবাদপত্র ও প্রকাশনার আবেদন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় অনুমোদন প্রদান করছে। একই সঙ্গে পুরনো পত্রিকার তথ্য হালনাগাদ, সার্কুলেশন নিরীক্ষা এবং প্রকাশনা সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণের মাধ্যমে একটি সুশৃঙ্খল গণমাধ্যম ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রতিষ্ঠানটি কার্যকর ভূমিকা রাখছে। দেশের সংবাদপত্র খাতে সঠিক তথ্যসংরক্ষণ এবং নীতিনির্ধারণী কাজে ডিএফপির ডাটাবেইজ আজ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদে পরিণত হয়েছে।
গণমাধ্যমে সরকারি বিজ্ঞাপন বিতরণ রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এ ক্ষেত্রে ‘সরকারি বিজ্ঞাপন বিতরণ নীতিমালা’ অনুসরণ করে বিজ্ঞাপন কর্মকর্তা বিজ্ঞাপন বরাদ্দ, গণমাধ্যম নির্বাচন, প্রচার কার্যক্রম এবং মনিটরিং সবকিছুই স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে সম্পন্ন করেন। এখানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রচার সংখ্যা, নিবন্ধন তথ্য ও গণমাধ্যমের প্রকৃতি বিবেচনায় আনা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে বিজ্ঞাপন বিতরণ প্রক্রিয়ায় ডিজিটালাইজেশন বাড়ানোয় অনিয়মের সুযোগ কমে এসেছে, যা ডিএফপির কার্যক্রমে সুনাম এনে দিয়েছে।
সরকারের উন্নয়নবিষয়ক নীতি, কর্মসূচি এবং জনকল্যাণমূলক বার্তা জনগণের কাছে তুলে ধরা ডিএফপির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন দায়িত্বগুলোর অন্যতম। এ লক্ষ্যে অধিদপ্তরটি নিয়মিত প্রামাণ্যচিত্র, তথ্যচিত্র, সংবাদচিত্র (নিউজরিল), ডকুড্রামা এবং বিশেষ প্রচারমূলক ভিডিও নির্মাণ করে। ডিএফপির প্রামাণ্যচিত্রগুলো শুধু প্রচারেই সীমাবদ্ধ থাকে না, এগুলো দেশের ইতিহাস, অর্জন ও যুগান্তকারী পরিবর্তনের দলিল হিসেবেও সংরক্ষিত থাকে। মুক্তিযুদ্ধ, কৃষি, শিল্প, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নারী উন্নয়ন, অবকাঠামো, ডিজিটাল রূপান্তরসহ বিভিন্ন খাতে ডিএফপি নির্মিত ডকুমেন্টারি দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে।
অধিদপ্তরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রীয় প্রকাশনা তৈরি ও বিতরণ। দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, জাতীয় দিবস এবং সমাজ সংস্কৃতি ভিত্তিক নানা বিষয় নিয়ে বই, পুস্তিকা, পোস্টার, বার্ষিকী, অ্যালবাম এবং বিভিন্ন সাময়িকী প্রকাশ করে ডিএফপি। এর মধ্যে ‘নবারুণ’ সাময়িকী দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি প্রকাশনা হিসেবে পাঠকসমাজে জনপ্রিয়। এসব প্রকাশনার মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম দেশের ইতিহাসের নানা অজানা অধ্যায় জানতে পারে, যা জাতীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।
ডিএফপি ছাপাখানা ও প্রকাশনা (ঘোষণা ও নিবন্ধিকরণ) আইন, ১৯৭৩ অনুযায়ী সংবাদপত্র ও প্রকাশনাগুলোর নিবন্ধন, মালিকানা যাচাই, ঘোষণা, তথ্য হালনাগাদ এবং পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করে। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারীরা নিয়মিতভাবে প্রকাশনাগুলোর নথিপত্র পর্যালোচনা করেন এবং প্রয়োজনবোধে সংশোধনী পরামর্শ প্রদান করেন। এতে একদিকে যেমন সংবাদমাধ্যমের সুশাসন নিশ্চিত হয়, তেমনি অনিয়ম বা ভুল তথ্যের চর্চা রোধ করা সম্ভব হয়। ডিএফপির তথ্য অফিসার তথ্য অধিকার আইনে জমা দেওয়া আবেদন যাচাই করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য সরবরাহ করেন। তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে নাগরিকদের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি দেশের অন্যতম কার্যকর সংস্থা হিসেবে পরিচিত। এ ক্ষেত্রেও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে দ্রুত সেবা প্রদানে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অধিদপ্তরের প্রধান কর্মকর্তাদের দায়িত্ব প্রসঙ্গে বলা যায়, মহাপরিচালক (ডিজি) খালেদা বেগম অধিদপ্তরের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা, নীতিমালা বাস্তবায়ন, কর্মকর্তা কর্মচারীদের তদারকি, পরিকল্পনা প্রণয়ন, উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ সবকিছুই তার সরাসরি নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। বর্তমান ডিজি খালেদা বেগম দায়িত্ব গ্রহণের পর পুরো দপ্তরে কর্মশৃঙ্খলা, সময়মতো কাজ সম্পন্ন, স্বাধীনতা ও জবাবদিহির পরিবেশ তৈরি করেছেন। প্রকাশনা কর্মকর্তা বই, পুস্তিকা, প্রামাণ্যচিত্র, সংবাদচিত্র, অ্যালবাম, পোস্টার ও সরকারি প্রচারসামগ্রী তৈরি, সম্পাদনা ও প্রকাশনার দায়িত্বে থাকেন। নিবন্ধন কর্মকর্তা নতুন সংবাদপত্র নিবন্ধন, তথ্য হালনাগাদ, প্রচার সংখ্যা যাচাই (সার্কুলেশন অডিট) এবং নিবন্ধন ডাটাবেইজ পরিচালনা করেন। বিজ্ঞাপন কর্মকর্তা সরকারি বিজ্ঞাপন বরাদ্দ, গণমাধ্যম নির্বাচন, বিজ্ঞাপন বিতরণ ও পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করেন। প্রশাসনিক কর্মকর্তা বিভিন্ন শাখার কাজ সমন্বয়, দাপ্তরিক নথিপত্র ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পরিচালনা করেন।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম রাষ্ট্রীয় তথ্যব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। গণমাধ্যম কাঠামোকে আরও শক্তিশালী, দায়িত্বশীল ও স্বচ্ছ করার উদ্যোগে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। অন্যদিকে সচিব মাহবুবা ফারজানা ডিএফপির কার্যক্রম পদ্ধতিগতভাবে উন্নত, আধুনিক এবং প্রযুক্তিনির্ভর করতে নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছেন। তাঁর তত্ত্বাবধানে নিবন্ধন প্রক্রিয়া, তথ্যসেবা, বিজ্ঞাপন বিতরণ এবং সরকারি প্রকাশনা কার্যক্রম আরও গতিশীল হয়েছে।
চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর একটি রাষ্ট্রীয় সাংগঠনিক প্রতিষ্ঠান হলেও এর কাজ সরাসরি জনস্বার্থ, জনসচেতনতা ও গণতান্ত্রিক তথ্যপ্রবাহের সঙ্গে জড়িত। সরকারের নীতি, উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ও জাতীয় অর্জনকে জনগণের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরতে এই প্রতিষ্ঠানটি নিরলসভাবে কাজ করছে। উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম, সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং মহাপরিচালক খালেদা বেগম এর নেতৃত্বে ডিএফপি বর্তমানে এক সুশৃঙ্খল, জবাবদিহিমূলক, আধুনিক ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে, যা গণমাধ্যম ও প্রকাশনা খাতে স্থিতিশীলতা ও আস্থা সৃষ্টি করে দেশের তথ্যসমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
ইএইচ