ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদির (ওসমান হাদি) অকাল প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
বৃহস্পতিবার রাতে বার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তিনি
ওসমান হাদির শাহাদাত বরণ উপলক্ষে আগামী শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সারা দেশে রাষ্ট্রীয় শোক পালনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। এদিন দেশের সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে।
এছাড়া শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) জুমার নামাজ শেষে দেশের সকল মসজিদে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া এবং অন্যান্য উপাসনালয়ে প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।
এদিকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা এই ঘটনাকে একটি ‘নৃশংস হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করেন।
তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, এই অপরাধের সাথে জড়িত সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। ড. ইউনূস আরও ঘোষণা করেন যে, শহীদ ওসমান হাদির স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানের সকল দায়িত্ব রাষ্ট্র গ্রহণ করবে।
প্রধান উপদেষ্টা হাদিকে ‘প্রতিবাদের আইকন’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদ বিরোধী সংগ্রামে তিনি ছিলেন এক অকুতোভয় সৈনিক। আসন্ন নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন হাদি দেখেছিলেন, তা বাস্তবায়ন করা এখন পুরো জাতির দায়িত্ব। তিনি দেশবাসীকে ধৈর্য ও সংযম বজায় রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের পথে চলার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগের সময় চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে দুর্বৃত্তদের গুলিতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান ওসমান হাদি। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) তাকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ছয় দিন মৃত্যুর সাথে লড়াই করে বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টায় তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান।
ইএইচ