প্রকাশ্যে ধূমপানে জরিমানা ২০০০ টাকা

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জানুয়ারি ১, ২০২৬, ০১:৫০ পিএম

তামাকের ভয়াবহ ক্ষতি থেকে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় বিদ্যমান আইন আরও কঠোর করল সরকার। নতুন পাস হওয়া ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অনুযায়ী, এখন থেকে পাবলিক প্লেসে ধূমপান করলে ৩০০ টাকার পরিবর্তে ২০০০ টাকা জরিমানা গুনতে হবে। ৩০ ডিসেম্বর মহামান্য রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর ১ জানুয়ারি থেকে এই নতুন বিধান কার্যকর হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত এই সংশোধিত অধ্যাদেশে তামাকের সংজ্ঞা বিস্তৃত করার পাশাপাশি ই-সিগারেট ও ভ্যাপ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

জরিমানা বৃদ্ধি: সকল পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে ধূমপান বা তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের জরিমানা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করা হয়েছে। পাবলিক প্লেসের সংজ্ঞাও আগের চেয়ে অনেক বড় করা হয়েছে।

ই-সিগারেট ও ভ্যাপ নিষিদ্ধ: দেশে ই-সিগারেট, ভ্যাপ, হিটেড টোব্যাকো (HTP) ও নিকোটিন পাউচসহ সব ধরনের উদীয়মান তামাকজাত পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, বিক্রি ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই নিয়ম ভাঙলে সর্বোচ্চ ৬ মাস কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

১০০ মিটারের মধ্যে বিক্রি মানা: কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলার মাঠ ও শিশুপার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত পণ্য কেনাবেচা করা যাবে না।

বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা বন্ধ: ইন্টারনেট, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, সোশ্যাল মিডিয়া কিংবা দোকানের বিক্রয়কেন্দ্রে তামাকজাত পণ্যের কোনো ধরনের প্রদর্শন বা বিজ্ঞাপন প্রচার করা যাবে না। এছাড়া তামাক কোম্পানির নামে কোনো সিএসআর (CSR) কার্যক্রম বা স্পনসরশিপ দেওয়া যাবে না।

বিড়ি উৎপাদন নিষিদ্ধ: তামাকজাত দ্রব্যের সাথে ক্ষতিকর আসক্তিমূলক দ্রব্য মেশানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এছাড়া কুম্ভি বা টেন্ডু পাতার বিড়ি উৎপাদন ও বিপণন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা: তামাকপণ্যের প্যাকেটের ৭৫ শতাংশ জায়গা জুড়ে বাধ্যতামূলকভাবে রঙিন ছবি ও স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা থাকতে হবে। স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং ছাড়া কোনো পণ্য বিক্রি করা যাবে না।

নিকোটিন পণ্যে কঠোরতা: ই-সিগারেট ও সংশ্লিষ্ট ডিভাইসের কোনো যন্ত্রাংশও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে রাখা বা প্রদর্শন করা দণ্ডনীয় অপরাধ।

লাইসেন্স বাতিল: কোনো কোম্পানি বা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নিয়ম লঙ্ঘন করলে জরিমানার পাশাপাশি তাদের লাইসেন্স বাতিল এবং মালামাল জব্দের ক্ষমতা রাখা হয়েছে নতুন আইনে।

আইনি প্রয়োগ: নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী ফৌজদারি কার্যবিধি মেনে মামলা পরিচালনা ও মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক শাস্তির ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যেই সরকার এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানানো হয়েছে।

জেএইচআর