আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সামগ্রিক পরিবেশকে ‘ইতিবাচক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের প্রধান ইভারস আইজাবস।
মঙ্গলবার সকালে ঢাকায় আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, দীর্ঘ সময় পর বাংলাদেশে গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক।
ইভারস আইজাবস বলেন, আমরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী এবং মাঠপর্যায়ের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। অধিকাংশ আলোচনায় একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে—সবাই মনে করছেন এই নির্বাচন বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে, যার মূল ভিত্তি হবে গণতন্ত্র।
এবারের নির্বাচনে ইইউ-এর নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী পর্যবেক্ষক দল কাজ করছে। এর উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো ইইউ-এর ২৭টি সদস্য রাষ্ট্র থেকেই অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত পর্যবেক্ষকরা এসেছেন। ইইউ-এর বাইরেও নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড ও কানাডার প্রতিনিধিরা এই মিশনে যুক্ত হয়েছেন। ঢাকার মূল বিশেষজ্ঞ দলের সঙ্গে মাঠপর্যায়ে মোতায়েন পর্যবেক্ষকদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সমন্বয় নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইইউ প্রধান পর্যবেক্ষক জোর দিয়ে বলেন, তারা কোনো রাজনৈতিক নির্দেশনা দিতে বা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করতে আসেননি। তাদের লক্ষ্য তিনটি মূল স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে— নিরপেক্ষতা, নির্ভুলতা এবং পারস্পরিক সম্মান। তিনি বলেন, আমরা এখানে এসেছি কেবল প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণ ও যাচাই করতে। ইউরোপে আমরা যে জবাবদিহি ও আইনের শাসনের কথা বলি, সেই অভিন্ন মূল্যবোধই আমাদের বাংলাদেশি জনগণের সঙ্গে একসূত্রে বেঁধেছে।
আইজাবস উল্লেখ করেন যে, নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ইইউ একটি বিস্তৃত চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেবে। এই প্রতিবেদনে গতানুগতিক পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি আধুনিক বিশ্বের বড় চ্যালেঞ্জগুলোও গুরুত্ব পাবে। অনলাইনে তথ্য যাচাই ও পর্যবেক্ষণে ইইউ-এর বিশেষ ইউনিট কাজ করছে।
ভুয়া তথ্য বা বিভ্রান্তিমূলক প্রচার কীভাবে জনমতকে প্রভাবিত করছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ থাকবে প্রতিবেদনে। দলগুলোর রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও নির্বাচনী ব্যবস্থার অগ্রগতি নিয়ে তারা গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
ইইউ প্রতিনিধি দলটি মনে করে, ১২ ফেব্রুয়ারির এই নির্বাচন ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার একটি মোক্ষম সুযোগ। আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণকে ইইউ-বাংলাদেশ সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি একটি অংশগ্রহণমূলক, বিশ্বাসযোগ্য এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
এএন