আইজিপি

ভোটের মাঠে ‘মব’ তৈরির চেষ্টা করলে পুরো আসনের নির্বাচন স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬, ০১:০২ পিএম

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা বা ‘মব’ তৈরির চেষ্টা করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। 

তিনি জানিয়েছেন, যদি কোনো আসনে দলবদ্ধভাবে ভোটকেন্দ্র দখল বা অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়, তবে নির্বাচন কমিশন কেবল সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র নয়, বরং ওই পুরো আসনের ভোট গ্রহণই স্থগিত করে দেবে।

মঙ্গলবার সকালে পুলিশ সদর দপ্তরে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও নির্বাচনী নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

আইজিপি বাহারুল আলম জানান, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশে তিন স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। 

নিরাপত্তার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ ও আনসারের সমন্বয়ে স্থায়ী পাহারা, নির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক টহল টিম ও যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত সাড়া দিতে প্রস্তুত বিশেষ দল।

নিরাপত্তা কাজে মোট ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকছেন। এছাড়া পুলিশকে সহায়তায় মাঠ পর্যায়ে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও আনসার সদস্যরা সক্রিয় রয়েছেন। নির্বাচনে পেশীশক্তি ও কারচুপি রোধে এবার প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেন আইজিপি। 

তিনি জানান, দেশের ৯০ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে ইতিমধ্যে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের শরীরে বডি ওর্ন ক্যামেরা থাকবে এবং আকাশপথে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হবে।

তাছাড়া, নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী এ পর্যন্ত ২৭ হাজার ৯৯৫টি বৈধ অস্ত্র জমা পড়েছে। এছাড়া অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি। 

বিগত নির্বাচনের তিক্ত অভিজ্ঞতা এবং পুলিশের হারানো ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আইজিপি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, গত নির্বাচনে বিতর্কিত ভূমিকা পালনকারী বা দলীয় তকমাযুক্ত পুলিশ সদস্যদের এবারের নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে পুরোপুরি দূরে রাখা হয়েছে। এই নির্বাচন পুলিশের জন্য জনগণের আস্থা ফিরে পাওয়ার একটি বড় সুযোগ। তিনি দাবি করেন, পুলিশ বর্তমানে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করছে এবং কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ নিচ্ছে না।

নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালীন দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্ত কিছু সহিংসতার কথা স্বীকার করেন আইজিপি। তিনি জানান, তফসিল ঘোষণার পর থেকে অর্থাৎ ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত সারাদেশে ৩১৭টি ছোট-বড় সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় দুর্ভাগ্যজনকভাবে ৫ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ৬০৩ জন। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

আইজিপি বাহারুল আলম দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, “নির্বাচন বিঘ্নিত করার ক্ষমতা কারও নেই। ভোটাররা যেন নির্ভয়ে কেন্দ্রে এসে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তার জন্য আমরা রাজপথে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছি।” তিনি নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো অপচেষ্টাকে রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবে গণ্য করে দমনের হুঁশিয়ারি দেন।

এএন