১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঢাকায় অবস্থিত আলজেরিয়ার দূতাবাস যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে জাতীয় শহীদ দিবস পালন করেছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী নেতা, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে আলজেরিয়ার জাতীয় পতাকা আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তোলন করা হয়। এরপর আলজেরিয়ার স্বাধীনতার জন্য আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
শ্রদ্ধা নিবেদনের পর মাওলানা মুহাম্মদ আনোয়ারুল হক শহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন। পরে উপস্থিত অতিথিরা আলজেরিয়ার জাতীয় শহীদ দিবসের তাৎপর্য নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র উপভোগ করেন, যা দিবসটির গুরুত্বকে আরও গভীরভাবে তুলে ধরে।
অনুষ্ঠানে প্রদত্ত বক্তব্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত হিজ এক্সেলেন্সি আবদেলওয়াহাব সাইদানি শহীদদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি তাঁদের আত্মত্যাগের মহিমা তুলে ধরে বলেন, ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা এবং জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এসব সার্বজনীন মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার জন্যই আলজেরিয়ার শহীদরা সংগ্রাম করেছিলেন।
রাষ্ট্রদূত দিবসটির প্রতিপাদ্য “শহীদদের অঙ্গীকারের প্রতি অবিচল” বিষয়টির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে বলেন, শহীদদের শুধু স্মরণ করলেই হবে না তাঁদের আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই প্রকৃত সম্মান জানাতে হবে। তিনি উপনিবেশিক শাসন থেকে আলজেরিয়ার স্বাধীনতা অর্জনের ইতিহাস এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদা রক্ষায় শহীদদের আত্মত্যাগকে জাতির নৈতিক দিকনির্দেশনা হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৭ সালে জাতিসংঘ কর্তৃক আলজেরিয়ার আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের স্বীকৃতির বিষয়টিও তুলে ধরেন। একই সঙ্গে লারবি বেন ম’হিদি ও দিদুশে মুরাদের মতো বীর শহীদদের জীবন ও আত্মত্যাগের উদাহরণ স্মরণ করে তাঁদের স্মৃতি সংরক্ষণে ঐক্য, সত্যনিষ্ঠা ও জাতীয় উন্নয়নে আত্মনিবেদনের আহ্বান জানান।
ফরাসি উপনিবেশিক শাসনের অন্যায়-অবিচারকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে আইন প্রণয়নের বিষয়টিও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, এই আইন শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার প্রতীক হওয়ার পাশাপাশি পারস্পরিক সম্মান ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গড়ে তুলতেও সহায়ক।
বক্তব্যের শেষাংশে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের শহীদদের প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং দুই দেশের আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের অভিন্ন মূল্যবোধের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শহীদদের স্মৃতি ও আদর্শ ধারণ করেই আলজেরিয়া ও বাংলাদেশ উন্নতি ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাবে।
অনুষ্ঠানটি শহীদদের অঙ্গীকার পুনর্নবীকরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয়, যা অতীতের আত্মত্যাগ ও ভবিষ্যৎ স্বপ্নের অবিচ্ছেদ্য বন্ধনকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরে। এটি ছিল এক আবেগঘন ও তাৎপর্যপূর্ণ আয়োজন, যেখানে স্বাধীনতা ও মর্যাদার জন্য আত্মদানকারী শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
ঢাকাস্থ আলজেরিয়ান দূতাবাস শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণে তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে জানায়, তাঁদের আত্মত্যাগই আলজেরিয়ার অগ্রযাত্রার প্রেরণা হয়ে থাকবে। আলজেরিয়া ও বাংলাদেশের বন্ধুত্বের বন্ধন অটুট শান্তি, সমৃদ্ধি ও মর্যাদার লক্ষ্যে দুই দেশ একসঙ্গে এগিয়ে যাবে।
জেএইচআর