মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্যময় প্রভাতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ একটি বিশেষ স্থাপনা উদ্বোধন করেছেন। গাজীপুরের সফিপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে তিনি নবনির্মিত সুউচ্চ ফ্ল্যাগপোল বা পতাকা-স্তম্ভের উদ্বোধন করেন।
একাডেমি প্রাঙ্গণে স্থাপিত এই সুউচ্চ স্তম্ভে উত্তোলিত পতাকার নাম দেওয়া হয়েছে ‘চির উন্নত বিজয় নিশান’। পতাকা-স্তম্ভটির উচ্চতা ১২০ ফুট, যা বর্তমানে দেশের সর্বোচ্চ পতাকা-স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত। এতে উত্তোলিত জাতীয় পতাকার দৈর্ঘ্য ২৮ ফুট এবং প্রস্থ ১৬.৮ ফুট। এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের চিরন্তন প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি দেশের সর্ববৃহৎ জনসম্পৃক্ত বাহিনী হিসেবে জাতীয় অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ বাহিনীর প্রায় ৫ লাখ ৭০ হাজার সদস্য নিয়োজিত ছিলেন, যা সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোর মধ্যে সর্বাধিক।
তিনি আরও বলেন, আজ মহান ভাষা শহিদদের স্মরণ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ভাষাশহিদ আব্দুল জব্বার এ বাহিনীর একজন গর্বিত প্লাটুন কমান্ডার ছিলেন। ভাষার মর্যাদা রক্ষায় তাঁর মহান আত্মত্যাগ বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের জন্য দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ ও আত্মত্যাগে অনুপ্রাণিত হওয়ার পাথেয়।
মহাপরিচালক উল্লেখ করেন, চির উন্নত বিজয় নিশান আমাদের গৌরবময় ইতিহাস ও দায়িত্বশীল ভবিষ্যতের প্রতীক। এই পতাকা আমাদের প্রত্যেক সদস্যকে শপথ করাবে যে, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ভাষা আন্দোলনের চেতনা আমাদের আত্মমর্যাদা ও অধিকার রক্ষার সংগ্রামের শিক্ষা দেয়।
তিনি আনসার-ভিডিপি সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই চেতনাকে ধারণ করে পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। একাডেমির চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাহিনীকে ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও সক্ষম করে তুলবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশীদ এবং আনসার ও ভিডিপি একাডেমির ভারপ্রাপ্ত কমান্ড্যান্ট মোহাম্মদ নুরুল আবছারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ভাষা আন্দোলনের অমর চেতনা ধারণ করে দেশের শান্তি ও উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয়ে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।
জেএইচআর