দিনাজপুর পৌরসভার টানা তিনবারের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। কিন্তু রাজনীতির বৈরী হাওয়ায় সেই মেয়রকেই এক সময় দেড় কেজি চাল চুরির মতো তুচ্ছ ও কাল্পনিক অপবাদ মাথায় নিয়ে কারাগারে যেতে হয়েছিল। আজ সময় বদলেছে এবং জনতা সেই অপমানের জবাব দিয়েছে ব্যালটের মাধ্যমে। মেয়র থেকে তিনি এখন জাতীয় সংসদের প্রতিনিধি। বলছিলাম দিনাজপুর ৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের কথা।
শনিবার দুপুরে দিনাজপুর জেলা বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে নিজের রাজনৈতিক জীবনের সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা ও আগামীর পরিকল্পনা নিয়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে কথা বলেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম তাঁর ওপর হওয়া রাজনৈতিক প্রতিহিংসার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র থাকাকালীন আমাকে হেনস্তা করতে কোনো পথ বাকি রাখা হয়নি। হাস্যকর হলেও সত্য যে মাত্র দেড় কেজি চাল চুরির মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম আরও বলেন, সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়লে আজও অবাক হই। কিন্তু আজ দিনাজপুরের মানুষ সেই অন্যায়ের বিচার করেছে। তারা আমাকে মেয়র থেকে সংসদ সদস্য বানিয়ে সংসদে পাঠিয়েছে। মানুষের এই ভালোবাসার ঋণ আমি কোনোদিন শোধ করতে পারব না। নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্য মনে করেন যে তাঁর এই বিজয় কেবল ব্যক্তিগত নয়, বরং এটি দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবং রাজনৈতিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের একটি জোরালো রায়।
লিখিত বক্তব্যে জাহাঙ্গীর আলম জানান, সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁর দায়িত্ব এখন আরও ব্যাপক। বর্তমান সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও শিল্পায়নকে কেন্দ্র করে যে আটটি অগ্রাধিকার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে দিনাজপুরের জন্য তিনি একটি বাস্তবমুখী উন্নয়নের রূপরেখা তৈরি করেছেন। তাঁর উন্নয়নের প্রধান ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে দায়িত্ব গ্রহণের পর শুরুতেই জেলার জরাজীর্ণ রাস্তাঘাট সংস্কারের কাজে হাত দেওয়া। জেলায় শিল্পায়নের খরা কাটাতে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং নতুন নতুন কলকারখানা স্থাপনে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড, মেডিকেল কলেজ ও হার্ট ফাউন্ডেশনের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো বিএনপি আমলেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে সেগুলোর সেবার মান বাড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি। এছাড়া দিনাজপুরকে মাদকমুক্ত করতে প্রশাসনকে সাথে নিয়ে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করার কথা জানান তিনি। ঐতিহ্যবাহী গোর এ শহীদ ময়দানের মালিকানা সংক্রান্ত আইনি জটিলতা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।
সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর আলম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সরকারি বেসরকারি কোনো দপ্তরেই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। বিশেষ করে টেন্ডার বাণিজ্য এবং ব্যবসায়ীদের ওপর কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না। তিনি মনে করেন, উন্নয়ন তখনই টেকসই হবে যখন সমাজ থেকে অনিয়মের শেকল ছিঁড়ে ফেলা সম্ভব হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর জেলা বিএনপির সহ সভাপতি রফিকুল ইসলাম, খালেকুজ্জামান, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তফা কামাল মিলন, দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবু বক্বর সিদ্দিক এবং জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রুবেল ইসলামসহ দলের অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। দেড় কেজি চালের মামলার আসামি থেকে আজ জাতীয় সংসদের নীতি নির্ধারক, সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের এই যাত্রা উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জেএইচআর