ছুটির দিনেও তেজগাঁও কার্যালয়ে অফিস করছেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬, ১২:৫১ পিএম

রাষ্ট্রীয় কাজে গতিশীলতা আনয়ন এবং প্রশাসনিক স্থবিরতা কাটাতে সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও বিরামহীন কাজ করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

শনিবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তিনি দাপ্তরিক কার্যক্রমে অংশ নেন। সাধারণ ছুটির দিনেও সরকারপ্রধানের এই সক্রিয়তা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।

সকাল থেকেই তেজগাঁও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল। ঘড়ির কাঁটায় তখন ঠিক ১০টা ১৫ মিনিট; প্রধানমন্ত্রী তার কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও দেশের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং উন্নয়ন প্রকল্পের তদারকিতে তিনি অফিস করার সিদ্ধান্ত নেন। কার্যালয়ে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মচারীরা।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে সরাসরি কথা বলা এবং কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা। কার্যালয়ে প্রবেশের পর তিনি বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং অধীনস্থ দপ্তর প্রধানদের সাথে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সভায় প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ফাইলগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। বিশেষ করে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলো যাতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে না থাকে, সেদিকে কড়া নজর রাখার আহ্বান জানান তিনি। কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, জনগণের সেবাকে প্রাধান্য দিয়ে প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগাতে হবে।

সচরাচর সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে রাষ্ট্রীয় উচ্চপর্যায়ের কার্যক্রম সীমিত থাকলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই প্রথা ভেঙে কাজের সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনতে চাইছেন। বিশ্লেষকদের মতে, তার এই নিয়মিত দাপ্তরিক তৎপরতা মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ছুটির দিনে অফিস করার মাধ্যমে তিনি একটি শক্তিশালী বার্তা দিলেন যে, দেশের প্রয়োজনে বিশ্রামের চেয়ে কর্মই বড়।

এদিন প্রধানমন্ত্রী কেবল মতবিনিময়ই করেননি, বরং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং ফাইলে স্বাক্ষর করেছেন বলে জানা গেছে। বিশেষ করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর তদারকিতে তিনি সংশ্লিষ্ট সচিবদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দাপ্তরিক কাজ শেষে তিনি বিকেলের দিকে পরবর্তী কর্মসূচিগুলোতে অংশ নেবেন। ছুটির দিনেও কর্মকর্তাদের পূর্ণ উপস্থিতি এবং প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা প্রশাসনের চাকা সচল রাখতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্কারের জন্য প্রশাসনিক তৎপরতা অপরিহার্য। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই ‘ ছুটির দিনে অফিস‘ করার চর্চাটি কেবল ব্যক্তিগত পরিশ্রমের উদাহরণ নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের প্রতি তার দায়বদ্ধতার প্রতিফলন। যখন দেশের বিভিন্ন স্থানে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে, তখন সরকারপ্রধানের এই সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ জনগণের মধ্যে আস্থার জায়গা তৈরি করে।

২৮ ফেব্রুয়ারির এই কর্মব্যস্ত সকালটি প্রমাণ করে যে, রাষ্ট্র পরিচালনায় বর্তমান প্রশাসন সময় ও সুযোগের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে চায়। তেজগাঁও কার্যালয়ের এই ব্যস্ততা কেবল একটি দিনের ঘটনা নয়, বরং এটি একটি আধুনিক ও কর্মঠ বাংলাদেশ গড়ার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনারই অংশ।

এএন