মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, নারীর অধিকার কেবল কাগজের স্বীকৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, বরং এর বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও নারীর ক্ষমতায়নে যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছেন। বিশেষ করে নারী শিক্ষার প্রসারে তাঁদের নেওয়া পদক্ষেপগুলোই আজকের অগ্রগতির ভিত্তি।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে রোববার বিকেলে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল- আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের নারী অধিকার ও ক্ষমতায়নের সূচনা করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তাঁর হাত ধরেই ১৯৭৮ সালে নারী বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠিত হয় এবং পুলিশ ও আনসার বাহিনীতে নারীদের নিয়োগ শুরু হয়।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জীবনেও নারীদের প্রভাব অত্যন্ত গভীর-বিশেষ করে তাঁর মা বেগম খালেদা জিয়া, সহধর্মিণী ডা. জোবায়দা রহমান এবং কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের অনুপ্রেরণার কথা তিনি বিভিন্ন সময় উল্লেখ করেছেন।
নারীদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিএনপি সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ সরাসরি নারীদের নামে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এছাড়া নারীদের জন্য যাতায়াত ব্যবস্থায় আলাদা যানবাহনের উদ্যোগসহ তাদের নিরাপত্তা ও কল্যাণে নানামুখী পরিকল্পনা সরকারের ইশতেহারে রয়েছে।
প্রাণিসম্পদ খাতের সাফল্যের কথা তুলে ধরে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বর্তমানে দেশের প্রান্তিক খামারিদের একটি বড় অংশই নারী। গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারী উদ্যোক্তারা নিজেদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে কাজের মানেও তারা পুরুষদের চেয়ে এগিয়ে থাকছেন।
অতীতের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকার সমাজে বৈষম্য তৈরি করেছিল যেখানে যোগ্যতার চেয়ে দলীয় পরিচয় বড় ছিল। বর্তমান বিএনপি সরকার দলীয় বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে মেধা ও যোগ্যতাকে মূল্যায়ন করে দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. ইমাম উদ্দীন কবীরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। আলোচনা সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী নারী কর্মকর্তাদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন।
জেএইচআর