তামাক নিয়ন্ত্রণ সংশোধনী অধ্যাদেশ প্রথম অধিবেশনেই পাসের দাবি স্বাস্থ্য আন্দোলনের

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: মার্চ ১২, ২০২৬, ১২:০৬ পিএম

দেশের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং তরুণ প্রজন্মকে তামাকের ক্ষতি থেকে রক্ষার লক্ষ্যে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই আইন হিসেবে পাস করার দাবি জানিয়েছে স্বাস্থ্য আন্দোলন-এর নেতৃবৃন্দ।

সংগঠনটির নেতারা বলেন, তামাক একটি নীরব ঘাতক। বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় দুই লাখ মানুষ তামাকজনিত কারণে অকালমৃত্যুর শিকার হন, যা গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৫৪৫ জনেরও বেশি। ধূমপান ও ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের ফলে ফুসফুসের ক্যান্সার, হৃদরোগ, স্ট্রোকসহ নানা মারাত্মক অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ে।

তাদের মতে, দেশে প্রতিবছর প্রায় এক লাখ ছয় হাজার মানুষ নতুন করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হন এবং প্রায় এক লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা এর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহারকে দায়ী করছেন।

স্বাস্থ্য আন্দোলনের নেতারা আরও বলেন, তামাক কোম্পানিগুলো নানা কৌশলে তরুণদের লক্ষ্য করে নতুন ভোক্তা তৈরি করছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুরুতর হুমকি। বিভিন্ন সময় তারা নতুন নতুন পণ্য বাজারে আনছে তরুণদের আকৃষ্ট করতে। ২০১৩ সালের গ্লোবাল ইয়ুথ টোব্যাকো সার্ভে অনুযায়ী, দেশে ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের প্রায় ৯ শতাংশ কোনো না কোনোভাবে তামাক ব্যবহার করে। পাশাপাশি শিশুরা পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছে।

সোসাইটি ফর রিসার্চ অন নিকোটিন অ্যান্ড টোব্যাকো-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯২ শতাংশ শিশুর লালায় নিকোটিনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা পরোক্ষ ধূমপানের ভয়াবহতা তুলে ধরে।

সংগঠনটি আরও জানায়, তামাক কোম্পানিগুলো প্রায়ই সরকারের জন্য বড় অঙ্কের রাজস্ব আয়ের কথা বললেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ২০২৩–২৪ অর্থবছরে তামাক খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আয় ছিল প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। অথচ একই সময়ে তামাকজনিত স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির অর্থনৈতিক মূল্য ছিল প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা বলে জানিয়েছে জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়। অর্থাৎ তামাক থেকে যে আয় হচ্ছে, তার চেয়েও বেশি ক্ষতির বোঝা বহন করতে হচ্ছে রাষ্ট্রকে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে আরও শক্তিশালী করতে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ কার্যকর হলে জনসমাগমস্থলে ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা, তামাকজাত দ্রব্যের প্রচার-প্রচারণা বন্ধ করা এবং নতুন প্রজন্মকে তামাকের আগ্রাসন থেকে সুরক্ষা দেওয়া সহজ হবে।

এ কারণে তারা জাতীয় সংসদের সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, জনস্বার্থ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সংশোধনী অধ্যাদেশটি দ্রুত আইন হিসেবে পাস করার উদ্যোগ নিতে।

এএন