তথ্যমন্ত্রী

সংসদীয় গণতন্ত্রের নবযাত্রা ও তর্কের স্বাধীনতা

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: মার্চ ১৪, ২০২৬, ০৩:১৭ পিএম

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা এবং জবাবদিহিতার পরিবেশ নিয়ে এক তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। 

শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক স্মরণসভায় তিনি দাবি করেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদে সুস্থ ও স্বাভাবিক বিতর্কের পথ প্রশস্ত হয়েছে। 

মন্ত্রীর মতে, এটি কেবল একটি নির্বাচন ছিল না, বরং এটি ছিল দেশের সংসদীয় কাঠামোকে পুনরায় সচল করার একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।

প্রয়াত জননেতা মশিউর রহমান যাদু মিয়ার ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী ইতিহাসের প্রেক্ষাপট টেনে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করেন। 

তিনি বলেন, ১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশে যেভাবে সংসদীয় গণতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ শাসনামলে সেই ধারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। মন্ত্রীর ভাষায়, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক রাজনীতির সবচেয়ে বড় অনুষঙ্গটি আবারও বাস্তবায়িত হয়েছে। 

শেখ হাসিনা যে সংসদীয় সংস্কৃতিকে ভূলুণ্ঠিত করেছিলেন, বর্তমানে তারেক রহমানের সুযোগ্য নেতৃত্বে সেই হারানো গৌরব ও সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রকৃত কাঠামো পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি মনে করেন, সংসদের ভেতরে এখন যে বিতর্ক হচ্ছে, তা কোনো কৃত্রিম আয়োজন নয় বরং জনআকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন।

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন তাঁর বক্তব্যে সাম্প্রতিক কিছু সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যখন কোনো নির্দিষ্ট মহল নিয়মতান্ত্রিক তর্ক বিতর্ক বা গণতান্ত্রিক চর্চার সীমা অতিক্রম করে তাকে মব কালচার বা উচ্ছৃঙ্খল সংস্কৃতিতে রূপান্তরের চেষ্টা করে, তখন পুরো জাতি আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। 

মন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, যখন সুস্থ বিতর্ককে বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়, তখন সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে, পুরোনো কোনো অগণতান্ত্রিক বা মনস্তাত্ত্বিক অপপ্রক্রিয়া আবারও ফিরে আসছে কিনা। এই ধরণের অস্থিতিশীলতা রোধে দেশপ্রেমিক সকল নাগরিক এবং রাজনৈতিক কর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, গণতন্ত্র মানে বিশৃঙ্খলা নয়, বরং আইনের শাসনের মধ্যে থেকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা।

তথ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার কেবল সংসদে নয়, বরং সংসদের বাইরেও জবাবদিহিতার একটি টেকসই সংস্কৃতি গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রশ্নে সরকার কোনো আপস করবে না বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। 

তিনি বিশ্বাস করেন, সংসদ যদি প্রাণবন্ত থাকে এবং বিরোধী দল যদি গঠনমূলক বিতর্কে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়, তবে রাষ্ট্রের সকল স্তম্ভ শক্তিশালী হয়।

মশিউর রহমান যাদু মিয়ার রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, জাতীয় স্বার্থে আপসহীন থাকার যে শিক্ষা যাদু মিয়া দিয়ে গেছেন, বর্তমান রাজনৈতিক ক্রান্তিলগ্নে তা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তিনি মনে করেন, যাদু মিয়ার মতো দূরদর্শী নেতাদের আদর্শ অনুসরণ করেই বর্তমান সংসদীয় ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থা এবং দেশের অভ্যন্তরে ১১ দলীয় ঐক্যের আন্দোলনের হুমকির মাঝে তথ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে অত্যন্ত কৌশলী হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। একদিকে যখন রাজপথে উত্তাপ বাড়ছে, তখন সরকারের পক্ষ থেকে সংসদীয় বিতর্ক এবং গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতার বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। 

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিরোধীদের নানা প্রশ্ন থাকলেও, সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে একে সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনর্জন্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার যে প্রচেষ্টা চলছে, তথ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য তারই ধারাবাহিকতা। শেষ পর্যন্ত এই সংসদীয় বিতর্ক রাজপথের আন্দোলনকে কতটা প্রশমিত করতে পারবে, তা সময়ই বলে দেবে।

এএন