ভাড়ার স্বচ্ছতা ও লক্কর-ঝক্কর বাস বন্ধে ডিএমপির কড়া হুঁশিয়ারি

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: মার্চ ১৪, ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখী যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পরিবহন খাতের বিশৃঙ্খলা রোধে কঠোর অবস্থানে নেমেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ বা ডিএমপি। এবারের ঈদযাত্রায় প্রতিটি বাস কাউন্টারে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা বা ফেয়ার চার্ট দৃশ্যমান স্থানে টানিয়ে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। 

একই সঙ্গে ফিটনেসবিহীন বা লক্কর-ঝক্কর বাস রাস্তায় নামলেই কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ সরওয়ার।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালে পরিবহন মালিক, চালক ও শ্রমিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ঈদ এলেই পরিবহন খাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের যে চিরচেনা অভিযোগ ওঠে, তা নিরসনে এবার প্রযুক্তির পাশাপাশি প্রশাসনিক তদারকি বাড়ানো হয়েছে। ডিএমপি কমিশনার স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভাড়ার চার্ট না টানিয়ে বা তালিকা লুকিয়ে রেখে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায় করলে সেই কাউন্টার ও সংশ্লিষ্ট বাসের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মতবিনিময় সভায় ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আনিছুর রহমান এ বিষয়ে আরও কঠোর বার্তা দেন। 

তিনি জানান, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি বা বিআরটিএ নির্ধারিত হারের চেয়ে এক টাকাও বেশি ভাড়া নিলে সংশ্লিষ্ট পরিবহনের রুট পারমিট বাতিল করা হবে।

এবারের ঈদে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানীর প্রতিটি টার্মিনাল ও কৌশলগত পয়েন্টগুলোতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ডিএমপি কমিশনার জানান, টার্মিনালগুলোতে সাধারণ পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশ বা ডিবি ও পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট স্পেশাল ওয়েপনস অ্যান্ড ট্যাকটিকস বা সোয়াত মোতায়েন থাকবে। 

ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে রাজধানীজুড়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বা মোবাইল কোর্ট সক্রিয় থাকবে। এ ছাড়া যাত্রীদের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কে ট্রাক, লরি ও কাভার্ড ভ্যান চলাচল নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হবে।

সভায় বাস মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক ও বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস যাত্রীদের ভোগান্তি কমানোর বিষয়ে একাত্মতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, পরিবহন খাতের সুনাম রক্ষার্থে এবং যাত্রীদের নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে মালিক ও শ্রমিকরা প্রশাসনের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে। কোনো শ্রমিকের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ উঠলে সংগঠন থেকেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

ডিএমপি কমিশনার পরিবহন সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ্যে বলেন, যাত্রীরা আমাদের মেহমান। কোনো অবস্থাতেই তাদের হয়রানি করা যাবে না। টার্মিনালে মলম পার্টি, অজ্ঞান পার্টি বা পকেটমারদের দৌরাত্ম্য বন্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি যাত্রীদেরও সজাগ থাকার এবং যেকোনো সমস্যায় দায়িত্বরত পুলিশ বা কন্ট্রোল রুমে অভিযোগ করার পরামর্শ দেন। 

পারস্য উপসাগরের অস্থিরতা ও জ্বালানি সংকটের যে মেঘ দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে, তার মাঝেও মানুষের নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা যেন নিরাপদ হয়, ডিএমপির এই পরিকল্পনা তারই একটি অংশ। গাবতলীর এই কড়া বার্তা সারা দেশের পরিবহন খাতেই একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জেএইচআর