ইতালিতে ভাই হত্যা, নেপথ্যে দুই স্ত্রীর চক্রান্ত

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: মে ২, ২০২৬, ০৮:৫২ পিএম

ইতালিতে বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাই খুনের ঘটনায় বেরিয়ে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার সোনারং গ্রামের বাসিন্দা দুই ভাই হুমায়ুন ফকির ও নয়ন ফকিরের মধ্যকার পারিবারিক এবং আর্থিক বিরোধই শেষ পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডে রূপ নিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এই নৃশংস ঘটনার নেপথ্যে হুমায়ুনের দুই স্ত্রীর উসকানি ও চক্রান্তের বিষয়টি জোরালোভাবে সামনে এসেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে থাকা হুমায়ুন ২০২৩ সালে ছোট ভাই নয়নকে সেখানে নিয়ে যান। নয়ন তাঁর বিদেশ যাওয়ার খরচ কিস্তিতে পরিশোধ করছিলেন। এরই মধ্যে হুমায়ুন গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করলে পরিবারে অশান্তি শুরু হয়। নয়ন পরিবারের বেশির ভাগ খরচ বহন করতেন এবং সম্প্রতি প্রায় ৪০ লাখ টাকা দিয়ে জমিও কেনেন। ছোট ভাইয়ের এই আর্থিক সাফল্যই বড় ভাইয়ের দুই স্ত্রীর ঈর্ষার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

অভিযোগ উঠেছে, হুমায়ুনের প্রথম স্ত্রী আমেনা আফরিন এবং দ্বিতীয় স্ত্রী তায়েবা প্রতিনিয়ত নয়নের সম্পদের তুলনা করে হুমায়ুনকে উসকে দিতেন। হত্যাকাণ্ডের দিন হুমায়ুন তাঁর প্রথম স্ত্রীকে বার্তা পাঠিয়েছিলেন যে, আজ তিনি নয়নকে মেরেই ভাত খাবেন। এতে স্পষ্ট হয় যে, হত্যাকাণ্ডটি ছিল ঠান্ডা মাথায় করা সুপরিকল্পিত। এ বিষয়ে দ্বিতীয় স্ত্রী তায়েবা আর্থিক দ্বন্দ্বের কথা স্বীকার করলেও নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন।

এদিকে, নয়নের মৃত্যুর শোকে যখন পরিবার স্তব্ধ, তখনই পুত্রবধূ আমেনা আফরিন তাঁর শ্বশুর-শাশুড়ি ও ননদের বিরুদ্ধে চুরির মামলা করেছেন। মামলায় তিনি দাবি করেছেন, তাঁরা তাঁর ঘর থেকে টাকা ও মালামাল লুট করেছেন। এমন ঘটনায় এলাকাবাসী ও স্বজনরা স্তম্ভিত।

নিহত নয়নের মা বড় ছেলে হুমায়ুনের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে বলেন, “দুই স্ত্রীর চাপে পড়েই হুমায়ুন আমার নির্দোষ ছোট ছেলেকে হত্যা করেছে।” উল্লেখ্য, ইতালির লেইজ শহরে দুই ভাইয়ের বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে হুমায়ুনের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নয়ন নিহত হন। হত্যার পর ভিডিও কলে স্বজনদের লাশ দেখান এবং অপরাধ স্বীকার করেন হুমায়ুন। বর্তমানে তিনি ইতালির পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।

জেএইচআর