নতুন চ্যালেঞ্জে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মে ১২, ২০২৬, ০১:৩৭ পিএম
ফাইল ছবি

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চাকা সচল রাখতে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। ২০২৬ সালের এই সময়ে দাঁড়িয়ে দেশের অবকাঠামো খাতে এক বিশাল কর্মযজ্ঞের মধ্যমণি হয়ে উঠেছে ‘সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়’।

নতুন সরকারের মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, এমপি, প্রতিমন্ত্রী মো. হাবিবুর রশীদ, এমপি ও প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, এমপির নেতৃত্বে এক আধুনিক, নিরাপদ ও টেকসই যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ নিয়েছে এই মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের কাঠামো ও নতুন নেতৃত্ব : দেশের সড়ক পরিবহন, জাতীয় মহাসড়ক এবং বৃহৎ সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে এই মন্ত্রণালয় দুটি পৃথক বিভাগের মাধ্যমে কাজ করছে- ১. সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ : যা মূলত দেশের অভ্যন্তরীণ সড়ক নেটওয়ার্ক ও গণপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়নে কাজ করে। ২. সেতু বিভাগ: পদ্মা সেতু বা যমুনা সেতুর মতো মেগা প্রকল্প এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মতো জটিল অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত।

মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন। তার সাথে তরুণ ও গতিশীল নেতৃত্ব হিসেবে যুক্ত হয়েছেন প্রতিমন্ত্রী মো. হাবিবুর রশীদ ও প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান। এই দ্বৈত নেতৃত্বে মন্ত্রণালয় এখন অতীতের অসমাপ্ত কাজ দ্রুত শেষ করা এবং নতুন প্রযুক্তিনির্ভর সড়ক ব্যবস্থাপনায় জোর দিচ্ছে।  বর্তমান চ্যালেঞ্জ মহাসড়ক ও সেতু খাতের স্থিতিশীলতা : দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বেশ কিছু কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন। এর মধ্যে প্রধান বিষয়গুলো হলো-

টেকসই মহাসড়ক উন্নয়ন : সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধীনে চলমান মহাসড়কগুলোকে চার লেনে উন্নীত করার কাজ ত্বরান্বিত করা এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণাঞ্চলের সাথে সংযোগকারী মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের বাড়তি চাপ সামাল দিতে মানসম্মত ও টেকসই নির্মাণ নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ। মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম নিয়মিত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে কাজের গুণগত মান যাচাই করছেন।

সড়ক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলায় কঠোর অবস্থান : দেশের সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং দুর্ঘটনা কমানো এই মন্ত্রণালয়ের সবচেয়ে বড় অগ্নিপরীক্ষা। প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ সমপ্রতি এক সমন্বয় সভায় বলেন, নিরাপদ সড়ক কেবল স্লোগান নয়, এটি আমাদের অঙ্গীকার। আনফিট যানবাহন এবং লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় নেই। তিনি ডিজিটাল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট এবং স্মার্ট হাইওয়ে সিস্টেম চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

মেগা প্রকল্পের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা : পদ্মা সেতু ও কর্ণফুলী টানেলের মতো বৃহৎ প্রকল্পগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ এবং এগুলোর সুফল যেন তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে নিরলস কাজ করছে সেতু বিভাগ। বিশেষ করে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বাকি অংশের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে নগরবাসীর যানজট দূর করা এখন এই নেতৃত্বের অন্যতম অগ্রাধিকার।

স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে আধুনিক গণপরিবহন : মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম মনে করেন, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের লক্ষ্য হওয়া উচিত একটি স্মার্ট যাতায়াত ব্যবস্থা। তার নির্দেশনায় ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড মেট্রো রেলের নতুন রুটগুলোর কাজ নির্ধারিত সময়ের আগে শেষ করতে কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া বাসের ই-টিকিটিং ব্যবস্থা এবং হাইওয়েগুলোতে স্বয়ংক্রিয় টোল আদায় পদ্ধতি চালুর মাধ্যমে মন্ত্রণালয় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা করেছে। সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয়ের লক্ষ্য হলো সারা দেশে একটি সমন্বিত মাল্টি-মোডাল ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম গড়ে তোলা, যেখানে সড়ক, সেতু ও রেলের মধ্যে চমৎকার সমন্বয় থাকবে।

পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট নির্মূল : পরিবহন সেক্টরে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা হলো অবৈধ চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট। মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম দায়িত্ব নেয়ার পর পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, সাধারণ যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে কোনো প্রকার অবৈধ অর্থ আদায় বরদাশত করা হবে না। অন্যদিকে, প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ হাইওয়ে পুলিশের সাথে সমন্বয় করে মহাসড়কগুলোতে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দিয়েছেন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা- দ্বিতীয় পদ্মা সেতু ও নতুন দিগন্ত : মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকারের এই মেয়াদে ‘দ্বিতীয় পদ্মা সেতু’ নির্মাণের প্রাথমিক সম্ভাব্যতা যাচাই ও অর্থায়নের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে। মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম চাচ্ছেন মেগা প্রকল্পের পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সংযোগ সড়কগুলোর মান উন্নয়ন করতে, যাতে গ্রামীণ অর্থনীতি সরাসরি জাতীয় অর্থনীতির সাথে যুক্ত হতে পারে।

চ্যালেঞ্জ অনেক, কিন্তু শেখ রবিউল আলম, হাবিবুর রশীদ ও মো. রাজিব আহসানের সমন্বিত নেতৃত্ব দেশবাসীকে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। প্রশাসনিক দক্ষতা এবং রাজনৈতিক অঙ্গীকারের মেলবন্ধনে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় আজ দেশের উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। টেকসই অবকাঠামো আর নিরাপদ সড়কের স্বপ্ন পূরণ হলে বাংলাদেশ ২০২৬ সালে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের।

এএন/জেএইচআর