তামাকপণ্যে কার্যকর কর বৃদ্ধির দাবি, বাজেটে কঠোর নীতি প্রস্তাব

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: মে ১৭, ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম

বাংলাদেশে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাকপণ্যে কার্যকর কর ও মূল্য বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় ‘নারীদের বাজেট ভাবনা’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।

আয়োজনে বলা হয়, দেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ কোনো না কোনোভাবে তামাক ব্যবহার করছে। পাশাপাশি নারীদের মধ্যেও তামাক ব্যবহারের হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যেও তামাক গ্রহণের প্রবণতা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

বক্তারা জানান, গবেষণায় দেখা গেছে শিশুদের শরীরে নিকোটিনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা পরোক্ষ ধূমপানের ভয়াবহতা নির্দেশ করে। প্রতি বছর প্রায় দুই লাখ মানুষ তামাকজনিত রোগে মারা যাচ্ছে। এতে স্বাস্থ্যখাতের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে।

তাদের উপস্থাপিত তথ্যে বলা হয়, ২০২৪ সালে তামাক ব্যবহারের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যেখানে রাজস্ব আয় ছিল প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। ফলে তামাক খাতকে রাজস্বের উৎস হিসেবে দেখার পরিবর্তে নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান তামাক কর কাঠামোকে জটিল ও অকার্যকর বলে উল্লেখ করা হয়। বিশেষ করে সিগারেটের চার স্তরের মূল্য কাঠামো ব্যবহারকারীদের সস্তা পণ্যের দিকে ঝুঁকতে উৎসাহিত করছে বলে দাবি করা হয়। একইভাবে জর্দা, গুল ও বিড়ির সহজলভ্যতাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

প্রস্তাবে বলা হয়, নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেট একত্র করে ১০ শলাকার দাম ১০০ টাকা নির্ধারণ, উচ্চ স্তর ১৫০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তর ২০০ টাকা নির্ধারণ করা উচিত। পাশাপাশি প্রতি প্যাকেটে অতিরিক্ত ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপের সুপারিশ করা হয়।

ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্যের ক্ষেত্রে প্রতি ১০ গ্রাম জর্দার দাম ৬০ টাকা, গুল ৩৫ টাকা এবং ৬০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়। বিড়ির ক্ষেত্রে প্রতি ২০ শলাকার দাম ৩০ টাকা এবং ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সুপারিশ করা হয়।

বক্তারা বলেন, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে লাখো মানুষ ধূমপান থেকে বিরত হবে, নতুন প্রজন্ম ধূমপানে নিরুৎসাহিত হবে এবং বিপুল সংখ্যক অকাল মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় বাড়তে পারে।

তাদের মতে, তামাকপণ্যে কর বৃদ্ধি শুধু জনস্বাস্থ্য নয়, নারী ও শিশুর সুরক্ষা, পারিবারিক ব্যয় হ্রাস এবং সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন তাবিনাজ সদস্য সীমা দাস সীমু। এছাড়াও তাবিনাজ সদস্যদের মাঝে আরও উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরার মরিয়ম মান্নান, কুমিল্লার পারভীন হাছান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইয়াছমিন জাহান, নরসিংদীর বিলকিছ আক্তার বিথি, জামালপুরের শারমিন কবির বীণা, ঢাকার মাহমুদা খাতুন, নিগার সুলতানা ও সামিয়া আফরিন। 

এএন