এক লাখ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে সাইপ্রাসে এস আলমের সম্পত্তি জব্দ

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: মে ২৯, ২০২৬, ০৯:৪৯ এএম

অর্থপাচার ও ব্যাংক জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগে ফেঁসে গেছেন এস আলম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম ও তার স্ত্রী। এই দম্পতির বিরুদ্ধে ওঠা প্রায় ৮০০ কোটি ইউরো পাচারের মামলার তদন্তের স্বার্থে তাদের একটি সম্পত্তি অবরুদ্ধ করেছে সাইপ্রাস প্রশাসন। দেশটির নিকোসিয়া জেলা আদালত এই সম্পদ জব্দের আইনি আদেশ জারি করেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সাইপ্রাস মেইলের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ মে এই সম্পত্তি ক্রোকের সিদ্ধান্ত আসে। মূলত সাইপ্রাসের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ ইউনিট (মোকাস) আদালতে এই আবেদনটি করেছিল। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে দুই দেশের মধ্যকার পারস্পরিক আইনি সহায়তার চুক্তির আওতায় পাঠানো অনুরোধের ভিত্তিতেই সাইপ্রাস কর্তৃপক্ষ এই কঠোর পদক্ষেপ নেয়।

অবশ্য ব্যবসায়ী সাইফুল আলম তার বিরুদ্ধে আনা এই সমস্ত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছেন। আদালতের এই নির্দেশনার পর সাইপ্রাসের পারেক্লিশা অঞ্চলে অবস্থিত তার একটি দোতলা আবাসিক ভবন রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্রোক করা হয়েছে। তবে তার আইনি সংস্থা কুইন ইমানুয়েলের দাবি, এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণ অন্যায্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

বাংলাদেশি গোয়েন্দাদের পাঠানো নথিপত্র অনুসারে, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত একটি সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত আর্থিক লেনদেনগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই দীর্ঘমেয়াদি অনুসন্ধানের মূল ফোকাস হচ্ছে- নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ জালিয়াতি, অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জন এবং অবৈধভাবে বিদেশে অর্থপাচার।

এই আন্তর্জাতিক তদন্তের অংশ হিসেবে ২০১৬ সালে সাইপ্রাসে নিবন্ধিত সাইফুল আলমের ‘এসিএলএআরই ইন্টারন্যাশনাল’ সংস্থাসহ ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস ও জার্সিতে থাকা বিভিন্ন ট্রাস্টের নেটওয়ার্ক খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। ঠিক এই সম্পত্তি ক্রোকের পরদিনই বাংলাদেশে আরেকটি জালিয়াতির মামলায় সাইফুল আলম ও তার ১০ সহযোগীকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

দেশের ভেতরের ওই মামলায় অভিযোগ ছিল, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড থেকে প্রায় ৬০ লাখ ইউরো (প্রায় ৮০ কোটি টাকা) ঋণ নিয়ে ১৩৪টি বাস কেনার কথা থাকলেও তা কেনা হয়নি। তবে তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, সাইফুল আলমের আর্থিক জালিয়াতির ব্যাপ্তি কেবল এই একটি মামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

অভিযোগ রয়েছে, সাইফুল আলমের মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকসহ দেশের একাধিক ব্যাংক থেকে বিশাল অঙ্কের ঋণ নিয়ে তাখেলাপি করেছে। গোয়েন্দারা এখন দেখছেন, এই খেলাপি ঋণের টাকাই জটিল কর্পোরেট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশের ব্যাংকে পাচার করা হয়েছে কিনা।

সম্প্রতি বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর জানিয়েছেন, এই পন্থায় দেশ থেকে প্রায় ৮ বিলিয়ন বা ৮০০ কোটি ইউরোর বেশি অর্থ সরানো হয়েছে, যা সাইপ্রাস ও সিঙ্গাপুরের সম্পত্তিতে বিনিয়োগ করা হয়। এর বিরুদ্ধে সাইফুল আলম আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বিরোধ নিষ্পত্তি সংস্থায় (আইসিএসআইডি) আপিল করেছেন। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে বিতর্কিত ‘গোল্ডেন পাসপোর্ট’ সুবিধার মাধ্যমে তিনি সাইপ্রাসের নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন।

এএন