সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার তারেক রহমানের

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৫, ০৯:২০ পিএম

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে এক বাণীতে অঙ্গীকার করেছেন, তিনি একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেছেন।

তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ব, যেখানে নিশ্চিত হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সমৃদ্ধি ও স্বনির্ভরতা, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উদার রাজনৈতিক পরিবেশ, সামাজিক স্থিতি ও ন্যায়পরায়ণতা।”

রোববার সন্ধ্যায় সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো বাণীতে তিনি আরও বলেন, ২০০৭ সাল থেকে আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস পালিত হয়ে আসছে। গণতন্ত্রের সারবত্তা ও এর অন্তর্নিহিত শক্তি সম্পর্কে বিশ্ব সম্প্রদায়ের মাঝে আগ্রহ সৃষ্টি করতে এই দিবস পালন করা হয়। জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোতে এটি গণতন্ত্র চর্চার লক্ষ্যে প্রণীত বিশেষ দিন।

তিনি বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আত্মদানকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহতদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন। এছাড়া সারাবিশ্বের গণতন্ত্রকামী মানুষের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

তারেক রহমান বর্ণনা করেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একদলীয় বাকশালের আগ্রাসী থাবা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছিলেন। তার দর্শন বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মর্মে প্রোথিত ছিল বহুদলীয় গণতন্ত্রে। প্রকৃত গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো মানবিক মর্যাদা, ব্যক্তি ও বাকস্বাধীনতা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও সাম্য। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া শহীদ জিয়ার চিন্তাভাবনা ও দর্শনকে এগিয়ে নেন, যার জন্য তাকে বিভিন্ন সময়ে স্বৈরতন্ত্রের হিংস্র আক্রমণ সহ্য করতে হয়েছে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বারবার স্বৈরতন্ত্রের হানা হয়েছে। রাজনৈতিক দল ও সংবাদপত্র নিষিদ্ধ করা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে অপরাধে পরিণত করা, ভুয়া ভোটার ব্যবস্থাপনা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা – এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে চাওয়া হয়েছে। গত দেড় দশকে আওয়ামী শাসনের উদ্ভূত পরিবেশে গণতন্ত্র অবরুদ্ধ ও জাতি বন্দী ছিল। গণতন্ত্রের নীতিমালা প্রচার বা সমুন্নত রাখার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে।

এবারের আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসের প্রতিপাদ্য হলো “Achieving Gender Equity: Action by Action”, অর্থাৎ পদক্ষেপের মাধ্যমে লিঙ্গ সমতা অর্জন। তিনি বলেন, গণতন্ত্রে নারী-পুরুষ বা অন্য যেকোনো লিঙ্গের মানুষ সমান সুযোগ ও মর্যাদা ভোগ করে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র-সমাজে কোনো বঞ্চনা থাকলে তা প্রতিবাদ ও সমাধানের সুযোগ পায়।

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র হলো সর্বজনীন মূল্যবোধ ও রাজনৈতিক পদ্ধতি, যা জনগণের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিসরে স্বাধীন অংশগ্রহণের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। গত বছরের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার এক নজিরবিহীন গণঅভ্যুত্থান ৫ আগস্ট ভয়ংকর স্বৈরশাসনের পতন ঘটিয়েছে। এখন ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একযোগে কাজ করতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্র মেরামতের ভিত্তি হবে অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন; বিচার বিভাগ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা; এবং গণতন্ত্রের সব মূলনীতির প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োগ।

ইএইচ