সালাহউদ্দিন আহমেদ

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সাংবিধানিক আদেশ জারি করা উচিত হবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৫, ০৯:৩৩ পিএম

বিএনপি জানিয়েছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সাংবিধানিক আদেশ জারি করা উচিত হবে না। দলটির বক্তব্য, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে পরে তা চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

বুধবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে আলোচনার পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ দলের অবস্থান তুলে ধরেন। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর এ ছিল শেষ আলোচনার সুযোগ।

আলোচনায় ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে দলগুলোর সামনে বিশেষজ্ঞ প্যানেলের তিনটি বিকল্প উপস্থাপন করা হয়—

সাংবিধানিক আদেশ জারি করে তাৎক্ষণিকভাবে সংস্কার কার্যকর করা।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একদিনে গণভোট আয়োজন করা।

নির্বাচনের পরে গণভোটের ফলাফলের ভিত্তিতে জনগণের রায় অনুযায়ী পূর্ব নির্ধারিত তারিখ থেকে তা কার্যকর করা।

জুলাই ঘোষণাপত্র প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন বলেন, “জুলাই ঘোষণাপত্রের ২২ দফা অনুযায়ী জনগণের অভিপ্রায়ের কথা উল্লেখ আছে। প্রশ্ন হলো, এটি কি ‘সোর্স অফ এসপিরেশন’ নাকি ‘সোর্স অফ লিগালিটি’? আমি বলেছি, ঘোষণাপত্র এখনও কার্যকর হয়নি। এতে বলা হয়েছে, এটি রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি পাবে এবং পরবর্তী জাতীয় সংসদে সংস্কার কার্যকর হবে। তাই এখন শুধুমাত্র এই ঘোষণার উদ্ধৃতি দিয়ে সাংবিধানিক আদেশ জারি করা সঠিক হবে না। তা হলে তা আগামীকালই চ্যালেঞ্জড হতে পারে, যা একটি খারাপ নজির হবে।”

বিএনপি নেতা আদালতে যাওয়ার পরামর্শও দেন, যদি সরকার এখনই সাংবিধানিক সংস্কার কার্যকর করতে চায়। জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে গণভোটের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ভোটাররা সংসদ সদস্য নির্বাচনের পাশাপাশি সংস্কারগুলোর সমর্থন বা বিরোধিতা করবেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন এলে তা বৈধ হবে এবং সংসদ সংস্কার কার্যকর করবে। পরবর্তী সংসদ যদি কিছু সংশোধনী আনে, তবে অবশ্যই আবার গণভোট নিতে হবে। ফলে দুটি গণভোটের সম্ভাবনা রয়েছে।”

সালাহউদ্দিন আরও বলেন, “আলোচনাকে ঝুলিয়ে রাখলে জাতীয় নির্বাচন অনিশ্চিত বা বিলম্বিত হলে অসাংবিধানিক বা ফ্যাসিবাদী শক্তি তা কাজে লাগাতে পারে।”

সংখ্যানুপাতিক ভোটাধিকার বা পিআর পদ্ধতির বিষয়ে বিএনপি নেতা বলেন, “পিআর পদ্ধতি অনিশ্চিত সরকার ও ঝুলন্ত সংসদ তৈরি করে—এর উদাহরণ আমরা পার্শ্ববর্তী দেশে দেখেছি। তাই আমরা এমন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে যেতে পারি না।”

ইএইচ