এই সময়ের প্রতিবেদন

জামায়াতকে ৫ কারণে পছন্দ করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৫, ০৩:৪৬ পিএম

ভারতের বাংলা দৈনিক ‘এই সময়’‑এ প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুনরায় প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠা জামায়াতে ইসলামীকে কেন যুক্তরাষ্ট্র পছন্দ করতে পারে-তা ব্যাখ্যা করেছেন এক বিদেশি কূটনীতিক।

প্রতিবেদক অনমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘পূর্বের হাওয়া: পর্ব ৩- ইসলামী জোট গড়ে জয়ী হতে কি পারবে জামায়াত’ শিরোনামের প্রতিবেদনে ওই কূটনীতিকের নাম প্রকাশ করা হয়নি; তবে তিনি পাঁচটি কারণে জামায়াতকে আমেরিকার পছন্দ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

প্রতিবেদন ও কূটনীতিকের উদ্ধৃতি অনুযায়ী, জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল-‘বাংলাদেশে জামায়াত কেন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এত প্রিয়?’ জবাবে তিনি বেশ কিছু দিক তুলে ধরেন। প্রধান পাঁচ কারণকে কূটনীতিকটি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন:

কূটনীতিকটি বলেন, জামায়াতের অনেক নেতা উচ্চশিক্ষিত এবং বাণিজ্যিকভাবে সফল। এ কারণে তারা কৌশলগতভাবে বেশি গ্রহণযোগ্য ও উপযোগী মনে হতে পারে।

তিনি উল্লেখ করেছেন যে জামায়াতের নেতারা ম্যান্ডারস বা আচরণগতভাবে ভদ্র ও সুন্দর- তাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ রয়েছে; এটি কূটনৈতিক ব্যবস্থাপনায় বড় একটি বিবেচ্য দিক।

প্রতিবেদন বলছে, জামায়াতকে বাংলাদেশের প্রধান শাসক দলগুলোর হাতে নির্যাতিত এবং মানবাধিকার বঞ্চিত হিসেবে একটি ইতিহাসের অংশ হিসেবে দেখা হয়-বিশেষ করে স্বাধীনতা সময়কার বিরোধিতার প্রেক্ষাপট থেকে। এই ‘বঞ্চিত’ ইমেজ কূটনীতিকের ভাষায় তাদের প্রতি সহানুভূতিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

কূটনীতিকটি প্রস্তাব করেছেন যে জামায়াত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে; অর্থাৎ তারা কিছু পরিমাণে রাজনৈতিক নিয়ম-কানুন মেনে চলে—এটিও তাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ায় বলে বিবেচিত হয়েছে।

এইচফলে কূটনীতিকটি বলেন, জামায়াতকে একেবারেই দূর-অতীত বা তালেবান-ধাঁচার মত অত্যন্ত রক্ষণশীল দল হিসেবে দেখা ঠিক নয়; বরং তাদের কিছু প্রগতিশীল দিকও আছে বলে দাবি করা হয়েছে। অতএব যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিকোণ থেকে তারা ‘নিয়ন্ত্রিত’ বা ‘শৃঙ্খলাবদ্ধ’ ইসলামী শক্তি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

প্রতিবেদনটি আরও উল্লেখ করেছে যে—যুক্তরাষ্ট্র বহু দশক ধরে বাংলাদেশে জামায়াতকে শাসন ক্ষমতায় দেখতে ইচ্ছুক; এটি এখন আর সম্পূর্ণ গোপন নয়। ওই আননামিক কূটনীতিকের কথায়, “যে দেশের ৮০‑৮৫ শতাংশ মানুষ মুসলমান, সেখানে জামায়াত যদি সরকারে আসে ক্ষতি কী? তারা শৃঙ্খলাবদ্ধ দল। তাদেরও উচিত একবার সুযোগ পাওয়া- ফেল করলে মানুষ সরিয়ে দেবেন।”

বছরখানিক ধরেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশে জামায়াতের পুনরুজ্জীবনের চিহ্ন দেখা যাচ্ছে—বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনে দলটির ছাত্র সংগঠন শিবিরের সাফল্যের পর আলোচনা তীব্র হয়েছে। এসব বিজয়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ও কূটনৈতিক কচকচানিতে নতুন কৌতূহল জন্মেছে; সে প্রেক্ষিতে বিদেশি কূটনীতিকের মন্তব্য আরেকটু তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনের সব দিকই ভিত্তি করে ‘এই সময়’‑এর রিপোর্ট ও ওই কূটনীতিকের ব্যক্তিগত মতামত তুলে ধরা হয়েছে; এটি কোনও সরকার বা দেশের নীতি‑অফিশিয়াল বিবৃতি নয়। কূটনীতিকের নাম সংবাদমাধ্যম প্রকাশ করেনি; তাই প্রতিবেদনটি একটি পরোক্ষ কূটনৈতিক মাত্রামাপ হিসেবে পাঠ্য হওয়া উচিত—অর্থাৎ এটি রিপোর্টেই প্রতিফলিত থাকা মতামত, বাস্তবিক সমর্থন বা নীতি ঘোষণার বিকল্প নয়।

জামায়াতকে ঘিরে বাংলাদেশি রাজনৈতিক মঞ্চে তীব্র আলোচনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক নজরও বাড়ছে—এমন সময়ে সাংবাদিক তদন্ত ও স্বচ্ছ তথ্যাদি থাকা গুরুত্বপূর্ণ। ‘এই সময়’‑এর প্রতিবেদনে উঠে আসা কূটনৈতিক ব্যাখ্যা একদিকে বিশ্লেষণাত্মক দিক উন্মোচন করলেও, বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত ও বিষয়ভিত্তিক প্রমাণাদি দরকার হিসেবে থেকে যায়।

ইএইচ