কলিজা ছিঁড়ে ফেলার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন সারজিস আলম

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: অক্টোবর ১২, ২০২৫, ০৮:০১ পিএম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ‘রাজনৈতিক দেউলিয়াদের কলিজা ছিঁড়ে রাস্তায় ফেলে রাখব’ এমন বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, গত এক মাসে একাধিকবার তার বক্তব্য দেওয়ার সময় বিদ্যুৎ চলে যাওয়াকে তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মনে করেন।

রোববার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে সারজিস আলম এই বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন।

পাঠকের সুবিধার্থে তার পোস্টের মূল অংশ তুলে ধরা হলো—

“বিগত এক মাসে পঞ্চগড় জেলায় এনসিপি ৩টি প্রোগ্রাম আয়োজন করেছে। প্রতিটি প্রোগ্রামে যখন আমি বক্তব্য দেওয়া শুরু করি, তার এক দুই মিনিট পরে বিদ্যুৎ চলে যায়। প্রথমবার যখন হয়েছিল কিছু বলিনি। মনে হয়েছিল এটা হতেই পারে। দ্বিতীয়বার একই ঘটনা ঘটলেও কিছু বলিনি, কিন্তু তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল। গতকাল আবার একই ঘটনা ঘটেছে। প্রোগ্রামের আগে-পরে নয়, অন্য কারো বক্তব্যের সময় নয়। ঠিক আমি যখন কথা বলা শুরু করি তখন বিদ্যুৎ চলে যায়। কথা শেষ হলে বিদ্যুৎ আসে। সকল মিডিয়া এটার সাক্ষী।”

তিনি আরও বলেন, তিনটি প্রোগ্রাম ভিন্ন দিনে ও সময়ে হলেও একই ঘটনা ঘটায় তিনি এটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মনে করেন। জেলা পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তার ছোটলোকি বা অন্য দলের দালালি মূলক আচরণ এ ধরনের ঘটনা ঘটায়। তিনি বলেন, “প্রত্যেকবারই প্রোগ্রামের আগে তাদেরকে বিষয়টি বলা হয়। তারপরও যখন একই চিত্র দেখা যায়, তাদের সাথে সুশীলতা প্রদর্শন করা উচিত নয়। তবে ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে যে উপমা ব্যবহার করেছি, সেটা করা উচিত হয়নি।”

সারজিস আলম উল্লেখ করেন, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, সিন্ডিকেট, দুর্নীতি ও মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে এনসিপির পক্ষ থেকে লং মার্চে ১০ ঘণ্টা ধরে প্রায় দুই হাজার মানুষ মোটরসাইকেলে করে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হয়েছে এবং পুরো পঞ্চগড় জেলার ১৫০ কিলোমিটার অতিক্রম করা হয়েছে। তিনি আশা করেন, মিডিয়া এই দিকেও ফোকাস দেবে।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার সারজিস আলমের নেতৃত্বে পঞ্চগড় শহর থেকে বাংলাবান্ধা পর্যন্ত লং মার্চ অনুষ্ঠিত হয়। সমাপ্তি বক্তব্য দেন রাত সাড়ে ৯টায় শেরেবাংলা পার্ক সংলগ্ন জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে। এ সময় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ক্ষিপ্ত হন সারজিস আলম। তিনি ওই বক্তব্যে বলেন, “এর আগেও পঞ্চগড়ে এনসিপির প্রোগ্রাম চলাকালে বিদ্যুৎ গেছে। যারা এটা করছে, তারা রাজনৈতিক। আমরা দেখব তাদের কলিজা কত বড়। কলিজা ছিঁড়ে রাস্তায় ফেলে রাখব।”

এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হলে তিনি ফেসবুকে এ ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

ইএইচ