নাহিদ ইসলাম

কিছু রাজনৈতিক দল জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে সনদে সই করছে

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: অক্টোবর ১৭, ২০২৫, ০৩:০৭ পিএম

ঐক্য, সংগ্রাম, মর্যাদা ও মুক্তির পতাকা হাতে শ্রমিকের রাষ্ট্রক্ষমতা প্রতিষ্ঠার সুদূরপ্রসারী অঙ্গীকার নিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অঙ্গসংগঠন ‘জাতীয় শ্রমিক শক্তি’। সংগঠনটির আহ্বায়ক হয়েছেন মাজহারুল ইসলাম ফকির, সদস্য সচিব রিয়াজ মোরশেদ এবং মুখ্য সংগঠক আরমান হোসেন।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর বাংলামোটরের ইস্কাটন নেভি কলোনিতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘যে দিনে কিছু রাজনৈতিক দল জাতীয় ঐকমত্যের নামে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে একটি কাগজে সই করছে, সেই দিনে জাতীয় শ্রমিক শক্তি রাজপথে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছে। আমরা জানি, রাজপথের শক্তিই শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়। ইনশাআল্লাহ, জাতীয় শ্রমিক শক্তিও জয়ী হবে। জাতীয় নাগরিক পার্টি শ্রমিকদের পক্ষে রাজনীতি করবে।’

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলের ঐক্যই জাতীয় ঐক্য নয়— ‘জাতীয় ঐক্য তখন হয়, যখন সমাজের সব অংশের মানুষ দেশপ্রেমের ভিত্তিতে এক হয়ে লড়াই করে। সেটা আমরা দেখেছিলাম জুলাই গণঅভ্যুত্থানে। সেসময় কোনো দলের ব্যানার ছিল না, ছিল ছাত্র, শ্রমিক ও পেশাজীবীদের ঐক্য। আমরা সেই জাতীয় ঐক্যের দিকেই এগোচ্ছি, যেখানে ছাত্র ও শ্রমিক কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করবে।’

শেখ হাসিনার ১৬ বছরের শাসনামলে শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হয়েছেন উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘ন্যায্য মজুরির দাবিতে চব্বিশের শুরুর দিকেও শ্রমিকদের রাস্তায় নামতে হয়েছিল, পুলিশের গুলিতে প্রাণ গেছে শ্রমিকদের। সে সময় শ্রমিকের অধিকার বলতে কিছু ছিল না।’

সংস্কার কমিশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নানা কমিশন গঠিত হলেও শ্রম কমিশন বা স্বাস্থ্য কমিশন নিয়ে কোনো আলোচনা দেখা যায়নি। শুধুমাত্র নির্বাচনকেন্দ্রিক সংস্কারেই সীমাবদ্ধ রয়েছে আলোচনা। এভাবে গণতন্ত্রের সঠিক রূপান্তর সম্ভব নয়।’

তিনি আরও প্রতিশ্রুতি দেন, ‘গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পাশাপাশি অর্থনৈতিক রূপান্তরেও ছাত্র, শ্রমিক ও পেশাজীবী মানুষ এক হয়ে লড়বে।’

এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, ‘জাতীয় শ্রমিক শক্তি শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করবে। দেশে সরকারি-বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই শ্রমিকদের প্রতি অবমাননাকর আচরণ করা হয়। রাষ্ট্রীয়ভাবেও এই বৈষম্য চালু আছে।’

শ্রম সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বিগত কয়েক বছরে হাজারো শ্রমিকের মৃত্যু ঘটেছে, কিন্তু তাদের হত্যার বিচার হয়নি। বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন বাস্তবায়নই শ্রমিকশক্তির অন্যতম লক্ষ্য।’

ইএইচ