সারজিস আলম

কিছুদিন পরে দেখা যাবে এই অভ্যুত্থানটাই নাই

পঞ্চগড় প্রতিনিধি প্রকাশিত: অক্টোবর ১৭, ২০২৫, ০৯:১১ পিএম

পঞ্চগড়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, “জুলাই সনদের ক্ষেত্রে যদি এমন হয় তাহলে কিছুদিন পরে দেখা যাবে অভ্যুত্থানটাই নেই। আবার কিছুদিন পরে দেখা যাবে, এই অভ্যুত্থানের যারা যোদ্ধা ছিল, রাজপথে নেমেছিল তাদেরকে বিভিন্নভাবে অভিযুক্ত করে একেকজনকে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা দেওয়া হবে এবং বিভিন্নভাবে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।”

শুক্রবার বিকেলে পঞ্চগড় সদর উপজেলার কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়নের টুনিরহাট এলাকায় শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রী কলেজ মাঠে টুনিরহাট জুনিয়র ফুটবল একাডেমী আয়োজিত গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের চতুর্থ দিনের খেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সারজিস আলম বলেন, “আগামীতে যারা ক্ষমতায় আসতে চায়, তারা এই কাজগুলোই করবে — আজ থেকে পাঁচ, দশ, পনের বছর পরও। আমাদের ওই জায়গাটা স্পষ্ট লাগবে। তখনি আমরা আমাদের জুলাই সনদে স্বাক্ষর বা এই বিষয়টি চিন্তা করবো। যেহেতু অন্তর্বর্তী সরকার দায়সারা ভাব দেখিয়েছে, এজন্য আমরা সেখানে অংশগ্রহণ করিনি। বর্তমানে এমন অবস্থা যে নামকাওয়াস্তে স্বাক্ষর করে নির্বাচনের দিকে যেতে পারলেই হলো। এতে কোনো সংস্কার হোক বা না হোক, জুলাই সনদের কোনো আইনী ভিত্তি থাকুক বা না থাকুক — পরবর্তীতে নির্বাচিত সরকার এসে সেটা বাস্তবায়ন করুক বা না করুক। তাদের কাজ কোনোভাবে স্বাক্ষরটা হয়ে যাওয়া যথেষ্ট। আমরা নতুন কিছু চাইনি, আবার নতুন করে দাবি দিতে হবে না। কমিটি ইতিমধ্যে ঐক্যমত কমিশনে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যেই দাবিগুলো আমরা চেয়েছি, তার আইনী ভিত্তি ক্লিয়ার।”

তিনি আরও বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা গতকাল সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রায় ১২ ঘন্টা কোনো রেসপন্স করেননি। আমরা আমাদের অবস্থান স্পষ্টভাবে জানিয়েছি। আমাদের আহ্বায়ক আগেই বলেছিলেন, আমরা অনেক ছাড় দিয়েছি ৫ আগস্টের পর থেকে। ঘোষণা পত্রেও ছাড় দিয়েছি। কিন্তু দেখুন ওই ঘোষণা কি? নামকাওয়াস্তে একটা কাগজ হয়ে বসে আছে, কোনো কার্যকারিতা দেখা যাচ্ছে না।”

সারজিস আলম বলেন, “প্রথমত, অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে, সেখানে এনসিপির কথা বাদই দিলাম। সেখানে তো প্রধান অতিথিদের কাতারে বা সামনের সারিতে জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের থাকা উচিত ছিল। কিন্তু আমরা দেখলাম এটি রাজনৈতিক দলের একটি চুক্তির মতো মিলনমেলা হয়েছে। সেখানে কোনো জুলাই যোদ্ধা বা শহীদ পরিবারের আসন নেই। এমন পরিস্থিতিতে তাদের ক্ষোভ প্রকাশিত হয়েছে। তবে তারা যে লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ছোঁড়া এবং রাবার বুলেট ব্যবহার করেছে, তা আমাদের কাছে অত্যন্ত অপ্রত্যাশিত এবং দুঃখজনক।”

চতুর্থ দিনে টুনিরহাট জুনিয়র ফুটবল একাডেমীর আয়োজনে নওগাঁ ফুটবল উন্নয়ন একাডেমী ও রংপুরের জয় স্পোর্টিং ক্লাব পীরগঞ্জের মধ্যে খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

ইএইচ