সালাহউদ্দিন আহমদ

জনগণের হাতে ভোটের নিরাপত্তা থাকবে

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: অক্টোবর ২৮, ২০২৫, ১২:৫৫ পিএম

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, এবার জনগণই ভোট পাহারা দেবে, জনগণই ভোটের মালিকানা রক্ষা করবে। তবে বহু বছর পর জনগণ এমন একটি সুযোগ পাচ্ছে, যখন তারা নিজের ভোট নিজে দিতে পারবে কোনো ভয় বা বাধা ছাড়াই।

সোমবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এক গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুষ্ঠু জাতীয় সংসদ নির্বাচন: নাগরিক সমাজের প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক দলের ভূমিকায় শীর্ষক এই আলোচনা আয়োজন করে একশনএইড বাংলাদেশ। আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী, সিপিবি, এনসিপি, এবি পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নির্বাচন কমিশন আইনগত কাঠামো তৈরি করে, প্রশাসন দায়িত্ব পালন করে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভোটের মূল শক্তি জনগণ। এইবার জনগণই সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করবে। আমরা চাই ভোটকেন্দ্রে যেন মানুষের ঢল নামে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থাকবে, কিন্তু তাদের ভূমিকা হবে গৌণ, মুখ্য ভূমিকা নেবে সাধারণ মানুষ।

তিনি বলেন, বিএনপি ইতিমধ্যে স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে একটি অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায়। ফ্যাসিবাদের পতনের পর দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে পুনর্গঠনের জন্য আমরা জনগণের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছি।

বিএনপি নেতা আরও জানান, দলটি ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামো সংস্কারের জন্য একাধিক কমিশন গঠন করবে। এর মধ্যে থাকবে সংবিধান সংস্কার কমিশন, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন, প্রশাসনিক সংস্কার কমিশনসহ বেশ কয়েকটি বিশেষায়িত সংস্থা।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গঠিত কমিশনগুলোর কাজ আমরা মূল্যায়ন করব। তবে রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে হলে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। সংস্কার প্রস্তাবের আহ্বান জানানো হবে সবার কাছ থেকে যা নাগরিক সমাজ, পেশাজীবী, তরুণ, নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কাছ থেকেও।

আলোচনায় একশনএইড বাংলাদেশের দেশীয় পরিচালক ফারাহ কবির বলেন, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন তখনই সম্ভব, যখন নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মরিয়মনেছা, একশনএইডের উইমেন রাইটস লিড, দেশের নয়টি জেলায় আয়োজিত পূর্ববর্তী আলোচনা থেকে পাওয়া সুপারিশগুলো উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে ভোটারদের আস্থা পুনরুদ্ধার এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

আলোচনায় আরও উপস্থিত ছিলেন, জামায়াতে ইসলামী নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, নারী শ্রমিক নেত্রী তাসলিমা আখতার, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কাজী মারুফুল ইসলাম, আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং এবং তরুণ শিক্ষার্থী সংগঠক নাজিফা জান্নাত। আর সঞ্চালনা করেন প্রথমা ট্রাস্টের সম্পাদক ফিরোজ চৌধুরী।

আলোচনার শেষ পর্যায়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশ এখন পরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে। আগামী নির্বাচন শুধু সরকার পরিবর্তনের বিষয় নয়, এটা রাষ্ট্রকে গণতন্ত্রের পথে ফিরিয়ে নেওয়ার আন্দোলন। জনগণ যদি ভোট দেয়ার সাহস পায়, তাহলে কোনো শক্তিই তাদের অধিকার ছিনিয়ে নিতে পারবে না।

তিনি আরও বলেন, জনগণকেই এবার পাহারা দিতে হবে ভোটকেন্দ্র, গণতন্ত্র ও তাদের ভবিষ্যত এই তিনটিকেই।

জেএইচআর