পৃথকভাবে গণভোট আয়োজন করলে বিপুল পরিমাণ ব্যয় হবে বলে বিএনপির বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
তিনি বলেছেন, ‘বিএনপির একজন নেতার চাঁদাবাজির টাকা দিয়েই গণভোট আয়োজন করা সম্ভব।’
শনিবার বিকেলে রাজধানীর পল্টনে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নে তরুণ আলেমদের ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী একথা বলেন।
পাটওয়ারী আরও বলেন, বিএনপি নেতারা যে অর্থ লোপাট করেছেন, সেই অর্থই রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়া উচিত। এই অর্থ দিয়েই একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ গণভোট আয়োজন করা সম্ভব।
তিনি বলেন, অতীতে মাত্র ৪০ শতাংশ ভোটে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসন অর্জন করেছে এবং সেই সুবিধা কাজে লাগিয়ে সংবিধান সংশোধন করেছে। তাই যথাযথ উচ্চকক্ষ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজন, তবে নির্বাচন অবশ্যই অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে হবে।
পাটওয়ারী বলেছেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে একটি বোঝাপড়া হচ্ছে বৃহৎ রাজনৈতিক ঘটনাগুলোতে নোট অব ডিসেন্ট ও গণভোটের দাবিতে তারা স্বতন্ত্র অবস্থান থেকে সরে আসতে পারে। তিনি এ ধরনের অভ্যন্তরীণ সমঝোতার খবর পেয়েছেন।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, যে রাজনৈতিক দল গণভোটের মাধ্যমে গঠিত, তারা কীভাবে গণভোটের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারে? এটি আত্মঘাতী রাজনৈতিক কৌশল।
তিনি অভিযোগ করেছেন, বড় রাজনৈতিক দলের নেতারা মঞ্চে ও জনগণের সামনে ভিন্ন বক্তব্য প্রদান করছেন। তুষারের মতে, বিএনপির ‘না’ ভোটের প্রচারণা কার্যকর হলেও তৃণমূল ভোটারের ৬৫ শতাংশ হ্যাঁ ভোট দেবে।
তুষার আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে আমরা অনেক কিছু হারিয়েছি, তবে যা রক্ষা করা সম্ভব, তা রক্ষা হবে জুলাই সনদের মধ্য দিয়ে। এজন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, যেন কোনো একক দল বাস্তবায়নকে ব্যাহত করতে না পারে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি যদি জুলাই সনদের আদেশ জারি করতে পারেন, তাহলে জনগণের সরকার হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে পারবেন। শহীদ মিনারে গিয়ে সব রাজনীতিক দল ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আদেশ জারি করুন।
গোলটেবিল বৈঠকে এনসিপির নেতারা পুনরায় জোর দিয়েছেন যে, গণভোট ও সংবিধান সংশোধনের বিষয়গুলোতে রাজনৈতিক সততা, স্বচ্ছতা এবং জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
এতে তারা আশা প্রকাশ করেছেন, রাজনৈতিক দলগুলো স্বতন্ত্র ও নৈতিকভাবে দায়িত্বশীল আচরণ করলে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুসংহত হবে।
ইএইচ