মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত রায়কে “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পক্ষপাতমূলক” হিসেবে দাবি করেছেন। রায় ঘোষণার পর ভারত থেকে পাঠানো পাঁচ পাতার এক লিখিত বিবৃতিতে তিনি বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের লক্ষ্য তার দল আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে অচল করে দেওয়া।
বিবৃতিতে শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন, “এই মামলাকে আমি আগেই এক ধরনের ‘নকল বিচার’ বা farce হিসেবে দেখেছি। শুরু থেকেই অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছি।” তার ভাষ্যে, প্রকৃত আদালতে যেখানে যথাযথ প্রমাণ ও সাক্ষ্য বিবেচনা করা হবে, সেখানে নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ মোকাবিলায় তিনি কখনও ভয় পাননি।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়া বিবেচনায় তিনি অন্তর্বর্তী সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন এই মামলাগুলো হেগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (ICC) স্থানান্তর করে তদন্ত-বিচার নিশ্চিত হোক, যাতে বিশ্বমানের প্রক্রিয়ায় প্রমাণ যাচাই করা যায়।
বিবৃতিতে নিজের সরকারের মানবাধিকার পরিস্থিতি, উন্নয়ন ও বিভিন্ন খাতে অগ্রগতির বিষয়ও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি এবং নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে তার আমলে অর্জিত সাফল্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দেওয়া এই রায় দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং আইনের প্রতি জনমানুষের আস্থা নষ্ট করবে।
রায় ঘোষণার পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন প্রবেশপথে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সম্ভাব্য নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
ইএইচ