ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, “আমাকে কিংবা আমার দলকে আত্মপক্ষ সমর্থনের ন্যায্য সুযোগ দেওয়া হয়নি।”
শেখ হাসিনা এনডিটিভি খবরে জানিয়েছেন, ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় “পক্ষপাতদুষ্ট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত”। পাঁচ পৃষ্ঠার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিস্ক্রিয় করে দিতে অন্তর্বর্তী সরকারের একটি পন্থা হচ্ছে—তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “এমন একটি ট্রাইব্যুনাল যেখানে ন্যায্যভাবে অভিযোগ যাচাই ও পরীক্ষা করা হয়, সেখানে আমি অভিযোগকারীদের মুখোমুখি হতে ভয় পাই না। আমি অন্তর্বর্তী সরকারকে চ্যালেঞ্জ করেছি এই অভিযোগগুলো হেগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে নিয়ে যেতে।”
শেখ হাসিনা তার মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংক্রান্ত রেকর্ড নিয়েও গর্ব প্রকাশ করেছেন।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন।
একই সঙ্গে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে, যিনি দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হয়ে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন, পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় প্রথম মামলা হয় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। গত বছরের ১৭ অক্টোবর পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের প্রথম বিচারকাজ অনুষ্ঠিত হয় এবং সেই সময়ই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। চলতি বছরের ১৬ মার্চ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন মঞ্জুর হয়ে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকেও একই মামলায় আসামি করা হয়।
ইএইচ