রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে আয়োজিত সম্মিলিত ইমাম-খতিব জাতীয় সম্মেলনে অংশ নিয়ে ধর্মীয় নেতৃত্বের ভূমিকা, মসজিদ পরিচালনার কাঠামো এবং আলেম ওলামাদের প্রতি রাজনৈতিক ও সামাজিক সমর্থনের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
রোববার চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এ বৃহৎ সমাবেশে তিনি জানান, দেশের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রকৃত আলেমদের পরামর্শে পরিচালিত হতে হবে এবং সমাজ গঠনের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে হবে ইমাম-খতিবদের মতামত।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মসজিদভিত্তিক কমিটি গঠনে ইমাম-খতিবদের বাদ দিয়ে সিদ্ধান্ত নিলে তা ইসলামের রীতি ও নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। নবীজির সমাজ ব্যবস্থা অনুসরণ করে একটি ঈমানদার সমাজ গড়ে তুলতে হলে আলেম-ওলামাদের মতামতকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
তার ভাষায়, মসজিদ শুধু ইবাদতের স্থান নয় এটি সমাজ পরিচালনার মৌলিক ভিত্তি। তাই মসজিদ কমিটি গঠনে ইমাম, খতিব এবং স্থানীয় আলেমগণের পরামর্শ জরুরি।
তিনি বলেন, কমিটি হবে সহযোগিতার জন্য, ইমামদের পাশ কাটিয়ে নয়। তাদের সম্মান রক্ষার মধ্য দিয়েই মসজিদভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থার মর্যাদা অটুট থাকবে।
বক্তব্যে তিনি ইমাম ও খতিবদের বিভিন্ন নৈতিক দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন। বলেন, দেশের মুসলমানদের আধ্যাত্মিক দিকনির্দেশনা যারা দেন, তাদের সম্মান ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজ উভয়ের দায়িত্ব। ইমামদের মানোন্নয়ন, নিরাপত্তা, প্রশিক্ষণ এবং ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।
এ সময় তিনি উল্লেখ করেন যে, ধর্মীয় নেতৃত্বের মর্যাদা রক্ষায় যেকোনো নৈতিক দাবির পাশে জামায়াতে ইসলামী থাকবে।
সম্মেলনের আবহ ছিল আত্মিক কথাবার্তা, উপদেশ এবং ধর্মীয় মূল্যবোধকে কেন্দ্র করে।
ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তৃতায় বলেন, এই উম্মাহর নেতৃত্ব দিয়েছেন নবীজির শিক্ষায় গড়ে ওঠা আলেমগণ। তাই বর্তমান সমাজে নৈতিকতা, মানবিকতা ও সত্যভিত্তিক নেতৃত্ব গড়তে হলে ইমাম-খতিবদের আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আজও আপনাদের পেছনে আছি, আগামীতেও থাকবো। আপনারাই এই সমাজকে সত্য, ন্যায় ও কল্যাণের পথে নিয়ে যেতে পারবেন। আপনাদের নেতৃত্বে সোনালী সমাজ গড়ে উঠার প্রত্যাশাই আমাদের।
সম্মেলনে উপস্থিত বহু ইমাম-খতিব তার বক্তব্যকে সমর্থন জানান বলে আয়োজকরা উল্লেখ করেন।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দিকে। ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, মসজিদ-মাদ্রাসা পরিচালনায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা প্রশাসনিক চাপ কখনো কল্যাণ বয়ে আনে না। এসব প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গ্রহণে যোগ্য আলেমদের মতামতই হওয়া উচিত প্রধান ভিত্তি।
তিনি ইসলামবিরোধী চিন্তাধারা থেকে মসজিদকে দূরে রাখতে এবং ধর্মীয় শিক্ষায় সঠিক ব্যাখ্যা ও রীতিনীতি অনুসরণের প্রতি জোর দেন।
জাতীয় পর্যায়ের এই আয়োজনটিতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত হাজারো ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন ও ইসলামি গবেষক অংশ নেন। সমসাময়িক নানা সামাজিক সংকট—যেমন ধর্মীয় মূল্যবোধের অবক্ষয়, পরিবারে বিভক্তি, তরুণদের নৈতিক চ্যালেঞ্জ এসব বিষয়ে বক্তারা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের করণীয় তুলে ধরেন।
সম্মেলনে বক্তারা উল্লেখ করেন, সমাজের নৈতিক কাঠামো পুনর্গঠনে মসজিদের ভূমিকা আরও বাড়াতে হবে। এজন্য ইমামদের প্রশিক্ষণ, ইসলামি জ্ঞান-বিকাশ এবং স্থানীয় পর্যায়ে মসজিদের সামাজিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির পরামর্শও উঠে আসে।
ইমাম-খতিবদের প্রতি সমর্থন এবং তাদের নেতৃত্বে সমাজ পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।
তার বক্তব্যে আলেমদের মর্যাদা, মসজিদ পরিচালনার কাঠামো এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ইএইচ