বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি কখনো ইসলামের মূলনীতি এবং মৌলিক বিশ্বাসের সঙ্গে আপস করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না।
রোববার ঢাকায় জাতীয় ইমাম-খতিব সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, তাওহিদ, রিসালাত, আখিরাত এই তিনটি বিষয়ে নিঃশর্ত বিশ্বাস স্থাপন ছাড়া কারও পক্ষে বিশ্বাসী মুসলমান হওয়া সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি বিশ্বাসী মুসলমানের জন্য কালিমা, নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত; ইসলামের পাঁচটি মূলনীতি অবশ্যই পালনীয়। এর কোনো বিকল্প নেই। এই পাঁচটি বিষয়ে বিশ্বের মুসলিম উম্মার মধ্যে বিরোধ নেই। তবে ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে এই বিধিবিধান বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে কিংবা হীন দলীয় স্বার্থে এগুলোর ব্যবহার নিয়ে ইসলামী স্কলারদের মধ্যে মাঝে মাঝে মতবিরোধ এবং ভিন্নমত দেখা যায়।
তারেক রহমান বলেন, রাজনেতিক দল হিসেবে বিএনপি মনে করে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা এবং বিশ্বাস এবং মহানবী (সা.) সর্বজনীন অবস্থান সমুন্নত রেখে ইসলাম নিয়ে গবেষণায় নিসন্দেহে কোনো বাধা নেই।
তিনি উল্লেখ করেন, ধর্মীয় ইস্যু নিয়ে বিরোধ বা হীন দলীয় রাজনৈতিক স্বার্থে ধর্মীয় বিধানের ব্যাখ্যা নিয়ে ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী দল হিসেবে বিএনপি মনে করে, ইসলামী বিধিবিধান নিয়ে মতবিরোধ বা ভিন্নমত যাতে রাষ্ট্র ও সমাজে ফিতনা সৃষ্টি না হয় এবং সাধারণ মুসলমানদের মধ্যে অনৈক্য না সৃষ্টি হয়—এ বিষয়ে নেতৃস্থানীয় উলামা, মাশায়েক ও ইমাম-খতিবগণ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারেন।
তারেক রহমান বলেন, ইসলামী মূল্যবোধের আলোকে বিএনপি এমন একটি সরকার ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার পক্ষে, যেখানে মুসলমানরা কোরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করতে সক্ষম হবে এবং নিরাপদে ইবাদত-বন্দেগি করতে পারবে। একইভাবে অন্য ধর্মের মানুষরাও নিশ্চিন্তে তাদের ধর্ম পালন করতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, পতিত স্বৈরাচারের দল যারা স্বাধীনতার পর রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসে নিজেদের ইচ্ছামতো সংবিধান রচনা করেছিল, সেই সংবিধানে দেশের অধিকাংশ জনগোষ্ঠীর আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয়নি। পরে স্বাধীনতার ঘোষক ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সংবিধানে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন এবং সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাসের কথা সংযোজন করেছিলেন। বর্তমান সংবিধানে তা পূর্ণভাবে প্রতিফলিত হয়নি।
তারেক রহমান বলেন, পতিত স্বৈরাচার ইসলামকে নানাভাবে সমাজে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করেছে। ২০২৪ সালের রমজান মাসে ইফতার মাহফিলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল, যা ইসলামী মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির বিরুদ্ধে একটি পদক্ষেপ ছিল।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত প্রায় ৫০ হাজার মাদ্রাসা রয়েছে, যেখানে লাখ লাখ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। এছাড়া দেশে প্রায় ৩.৫ লাখ মসজিদ এবং ১৭ লাখ ইমাম, খতিব ও মোয়াজ্জিন দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের বাইরে রেখে রাষ্ট্র পরিচালনা করা সম্ভব নয়।
ইএইচ