ধর্ম অবমাননার অভিযোগে আটক বাউল শিল্পী আবুল সরকারকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সৃষ্টি হওয়া বিভ্রান্তি মোকাবিলায় ফের বিবৃতি দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
মঙ্গলবার রাতে দলের ধর্ম ও সম্প্রীতি সেলের সম্পাদক তারেক রেজা স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়। এতে এনসিপি স্পষ্ট করে জানায়, বাউল আবুল সরকারের বক্তব্য এবং তার জামিনের দাবিতে মানববন্ধনে হওয়া হামলা দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ঘটনা।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বাউল আবুল সরকারের কিছু বক্তব্য ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অনুভূতিতে আঘাত করেছে বলেই তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এটি আদালতে বিচারাধীন, এবং আদালত আইন অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে। আমাদের আগের বিবৃতির উদ্দেশ্য কেবল মানববন্ধনে হওয়া হামলার নিন্দা জানানো, বক্তব্যের বৈধতা দেওয়া নয়।”
এনসিপি আরও জানিয়েছে, সাংবিধানিকভাবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত থাকলেও তা আইনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। দল কখনোই ধর্ম অবমাননাকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হিসেবে গ্রহণ করেনি; বরং আইনের মধ্যেই সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক চর্চার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নীতি অনুসরণ করে।
বিবৃতিতে এনসিপি অভিযোগ করেছে, অনলাইনে একটি গোষ্ঠী রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অপপ্রচার চালাচ্ছে যে দলটি ইসলামের বিরোধী। দল এটিকে ‘ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ হিসেবে উল্লেখ করে জানায়, তারা কোনো ধর্মের বিরোধী নয় এবং ধর্ম অবমাননাকে সমর্থন করে না।
দলটি আরও জানায়, “হাসিনা সরকারের আমলে ইসলামবিদ্বেষের বিরুদ্ধে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান ছিল জনতার প্রতিবাদের বহিঃপ্রকাশ। আমরা ধর্মবিদ্বেষ প্রত্যাখ্যান করি এবং ধর্মীয় ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিই।”
এনসিপি বাংলাদেশের আলেম সমাজের ভূমিকাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, “আলেমরা দীর্ঘদিন ধরে ধৈর্য, প্রজ্ঞা ও শান্তিপূর্ণ দাওয়াতের মাধ্যমে সমাজে সংযম ও ন্যায়ের বার্তা ছড়িয়েছেন। ধর্মীয় ভুল ব্যাখ্যার সময়ে তারা মানুষকে উত্তেজনা থেকে ফিরিয়ে আনে এবং আইনের প্রতি সম্মান শেখান।”
বিবৃতির শেষাংশে এনসিপি পুনর্ব্যক্ত করেছে, অপরাধ করলে তার বিচার আদালত করবে, জনতা নয়। আইন হাতে তুলে নেওয়া ইসলামের শিক্ষা নয়; বরং সত্য, প্রমাণ ও ন্যায়ের ভিত্তিতে বিচারই ইসলামের মূলনীতি। দলটি শান্তি, সম্প্রীতি, ন্যায় ও আইনের শাসনের রাজনীতিতে অটল থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
ইএইচ