রফিকুল ইসলাম খাঁন

যে দলে নিজেদের সংঘর্ষে নিজেরা মারা যায়, তাদের হাতে দেশ নিরাপদ নয়

শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি প্রকাশিত: নভেম্বর ২৭, ২০২৫, ০৭:০৫ পিএম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খাঁন বলেন, ৫ আগস্টের পর একটি দল নিজেদের মধ্যে সিএনজি স্ট্যান্ড, দখলবাজি ও চাঁদাবাজি করতে গিয়ে সংঘর্ষে প্রায় ২০০ জন নিহত হয়েছে। তিনি বলেন, “যে দলের নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে নিজেরা মারা যায়, তাদের হাতে বাংলাদেশ নিরাপদ নয়।”

বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টায় মাঝিড়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথাগুলো বলেন।

উপজেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খাঁন আরও বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রিয় বাংলাদেশে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা ও সৎ লোকের শাসন কায়েম করতে চায়। আল্লাহ মানুষকে এই পৃথিবীতে খলিফা হিসেবে পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে তিনটি দল দেশ শাসন করেছে; এর মধ্যে একটি দল দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে। এই উপমহাদেশে আলেম ও বর্ষিয়ান নেতাদের প্রহসনের মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, শাজাহানপুরে আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের পর ৫ জন শহীদ হয়েছে। এছাড়াও আল্লামা ফকির আব্দুর রহমান এখানে শায়িত আছেন। আরেকটি দল ভোট ছাড়া ৯ বছর শাসন করেছে এবং তৃতীয় দল ক্ষমতায় থেকে ৫ বার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এজন্য সৎ লোকের শাসন অপরিহার্য।

রফিকুল ইসলাম খাঁন উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদ নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্যানেল বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছে। দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। জুলাই বিপ্লব কোনো দলের নেতৃত্বে হয়নি; সাধারণ ছাত্রদের আন্দোলনের সর্বস্তরের মানুষ এতে অংশ নিয়েছে এবং প্রায় দুই হাজার মানুষ শহীদ হয়েছে। তিনি বলেন, “এই বাংলাদেশ কারো বাপের বা কোনো দলের নয়; বাংলাদেশ সবার। এই বাংলাদেশ কারা পরিচালনা করবে, তা আগামী নির্বাচনে জনগণ নির্ধারণ করবে।”

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে দুর্নীতি বন্ধ করতে পারলে দেশ সোনার দেশে পরিণত হবে। নারীরা সর্বোচ্চ মর্যাদা পাবে এবং স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারবে। জামায়াতের কোনো নেতার হাতে কোনো হিন্দু, বৌদ্ধ বা খ্রিষ্টান নির্যাতিত হয়নি। অমুসলিমরা এখন জামায়াতকে নিরাপদ মনে করে।

রফিকুল ইসলাম খাঁন বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার কোনো দলের সরকার নয়। যদি কোনো উপদেষ্টার রাজনীতি করার ইচ্ছা থাকে, তাহলে উপদেষ্টা পদ ছেড়ে রাজনীতি করুন। প্রশাসনকে তিনি নিরপেক্ষ থাকার নির্দেশ দেন। নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল তৈরি করতে হবে এবং গণভোট আগে দিতে হবে। তিনি বলেন, “জামায়াতের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে জাতিকে বিভ্রান্ত করা যাবে না। এই বাংলাদেশে আওয়ামী স্টাইলের কোনো নির্বাচন আর হবে না। জামায়াত ক্ষমতায় এলে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে।”

সম্মেলনে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও বগুড়া-৭ সংসদীয় আসনে এমপি প্রার্থী গোলাম রব্বানী। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে বেকার যুবক ও নারীদের জন্য কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা, শিক্ষা ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করা এবং চাঁদাবাজিমুক্ত এলাকা গড়ে তোলা হবে।

উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা শহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বগুড়া অঞ্চল টিম সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হক সরকার, নায়েবে আমীর অধ্যাপক আব্দুল হাকিম সরকার, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা মানছুরুর রহমান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুল মতিন, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল বাসেদ, জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল হালিম, জেলা বায়তুলমাল সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল্লাহিল বাকী, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আব্দুল মজিদ প্রমুখ।

ইএইচ