নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নেবে আনিসুলের জাতীয় পার্টি ও জেপি, নতুন জোট গঠনের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক  প্রকাশিত: নভেম্বর ২৮, ২০২৫, ১২:০৫ এএম

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচনী শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও আনোয়ার হোসেন মঞ্জু নেতৃত্বাধীন দুই ধারা জাতীয় পার্টি (জাপা ও জেপি) ঐক্যবদ্ধভাবে অংশগ্রহণ করবে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি বৃহত্তর রাজনৈতিক সংহতি তৈরি করার উদ্দেশ্যে এই দুই দলের নেতৃত্বে একটি নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। সূত্র মতে, জোটের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ হতে পারে আগামী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে।

জাতীয় পার্টির (একাংশ) চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা বৃহত্তর রাজনৈতিক জোট গঠনের প্রক্রিয়ায় রয়েছি। এই মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলতে পারছি না। তবে লক্ষ্য হচ্ছে সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংহতি গড়ে তোলা।” তিনি আরও জানান, এই জোটে অন্তর্ভুক্ত দলগুলো জাতীয়তাবাদ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ইসলামি মূল্যবোধ এবং সকল ধর্মের সমন্বয় ও সম্প্রীতির ভিত্তিতে কাজ করবে।

তবে কোন কোন দল এই উদ্যোগে যুক্ত হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর তাদের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ১৪ দলের অংশীরা দীর্ঘদিন থেকে অক্রিয় অবস্থায় থাকায় নির্বাচনী মাঠে নতুন কোনো প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়নি। ফলে জাতীয় পার্টি ও জেপি নিজেদের রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনায় নানা বাধা ও প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়েছে।

জাতীয় পার্টির নির্বাহী চেয়ারম্যান মুজিবুল হক বলেন, সমমনা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিয়ে একটি নতুন জোট গঠনের ব্যাপারে ঘরোয়া আলোচনা দীর্ঘদিন ধরে চলছে। আমরা আশা করি শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটাতে পারব। দলের মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার জানান, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে আমরা নতুন জোটের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করতে চাই।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কয়েকটি নতুন দল আত্মপ্রকাশ করেছে। তারা সম্প্রতি বিভিন্ন প্রান্তিক রাজনৈতিক কার্যক্রমে সক্রিয়। এ ছাড়া গত ৯ আগস্ট ঢাকার গুলশানে জাতীয় পার্টির কাউন্সিলে সংহতি প্রকাশ করতে আসা কয়েকটি দলও সম্ভাব্য নতুন জোটের অংশ হতে পারে। এ প্রসঙ্গে দলের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, নতুন এই জোট গঠনে রাজনৈতিক সহযোগিতা, অভ্যন্তরীণ ঐক্য এবং নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জাতীয় পার্টির নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত নেতারা মনে করছেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নেওয়া দলগুলোর প্রভাব বৃদ্ধি পাবে। এতে ভোটব্যাংক একত্রিত হবে এবং নির্বাচনী চাপে একটি শক্তিশালী জোট আভাস দিতে পারবে।

নতুন রাজনৈতিক জোটের মূল লক্ষ্য হবে রাজনৈতিক সংহতি এবং জাতীয়তাবাদী মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে নির্বাচনী প্রভাব বৃদ্ধি। জোটের রূপরেখা প্রাথমিকভাবে এমনভাবে পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যাতে প্রতিটি অংশগ্রহণকারী দল নিজের রাজনৈতিক পরিচয় বজায় রাখে। এছাড়া জোট গঠনের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে ঐক্যবদ্ধ প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এক অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, নতুন জোটে অন্তর্ভুক্ত দলের মধ্যে অনেকেরই নিজস্ব ভোট ব্যাংক ও স্থানীয় শক্তি রয়েছে। এই শক্তিকে কেন্দ্র করে জোটের কাঠামো ও কৌশল নির্ধারণের প্রস্তুতি চলমান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন এই জোট তৈরি হলে এটি নির্বাচনী মাঠে একটি তৃতীয় বিকল্প হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। ফলে বিএনপি ও জামায়াতপন্থী প্রার্থীদের পাশাপাশি জাতীয় পার্টি ও জেপি কেন্দ্রিক জোটও ভোটে প্রতিযোগিতা বাড়াবে। এছাড়া এই জোট রাজনৈতিক সংহতি ও ঐক্য প্রদর্শনের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে শক্তিশালী বার্তা দিতে পারবে।

নেতৃবৃন্দ আশা করছেন, জোট গঠন এবং অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভোটারদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে, যা নির্বাচনকে আরও গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু করতে সহায়ক হবে।

বর্তমানে জোট গঠনের প্রক্রিয়া প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং নির্বাচনী মাঠে কার্যক্রম শুরু হতে পারে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে। এর মধ্যে অংশগ্রহণকারী দলগুলো নিজেদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করবে এবং ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ বাড়াবে।

জাতীয় পার্টির একাংশের মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, আমরা আশা করছি, নতুন রাজনৈতিক জোটের মাধ্যমে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে একক শক্তি ও সংহতি প্রদর্শন করা সম্ভব হবে। এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসরে একটি নতুন দিক নির্দেশ করবে।

এই নতুন উদ্যোগ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক বৈচিত্র্য বাড়াবে এবং সমমনা দলগুলোর মধ্যে সংহতির নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। তবে কোন দল চূড়ান্তভাবে জোটে অংশ নেবে এবং কিভাবে ভোটের মাঠে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা হবে, তা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর আরও স্পষ্ট হবে।