বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির হিসেবে তৃতীয় মেয়াদে শপথ নিতে গিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়লেন ডা. শফিকুর রহমান।
শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে এ আবেগঘন দৃশ্যের অবতারণা হয়।
২০২৬ থেকে ২০২৮ এই তিন বছরের জন্য পুনরায় দলের নেতৃত্বভার গ্রহণ করলেন তিনি। শপথবাক্য পাঠের সময় ডা. শফিকুর রহমান এতটাই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন যে তাকে কয়েকবার থামতে হয়। এ সময় মিলনায়তনে উপস্থিত দলের অন্যান্য নেতা-কর্মী ও সদস্যরাও গভীর মনোযোগ ও শ্রদ্ধার সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী গোপন ব্যালটের মাধ্যমে সারাদেশের সদস্যদের (রুকন) ভোটে ডা. শফিকুর রহমান আমির নির্বাচিত হন। শপথ অনুষ্ঠানে তিনি যখন দায়িত্ব গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করছিলেন, তখন তার কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসে।
"আল্লাহর কাছে আমি কৃতজ্ঞ। এই পবিত্র দায়িত্ব...," এই কথাগুলো বলার সময়ই তিনি প্রথমবার কান্নায় ভেঙে পড়েন। উপস্থিত নেতাকর্মীরা তখন করতালির মাধ্যমে তাকে সাহস জোগান।
কিছুক্ষণ বিরতির পর তিনি আবার শপথ গ্রহণ শুরু করেন। তবে দলের দায়িত্বের গুরুত্ব ও অতীতের নানা ঘটনার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি আরও দু'বার কান্নায় জড়িয়ে পড়েন। শপথ শেষে এক সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় তিনি দেশের মানুষের প্রতি তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
শপথ গ্রহণের পর ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তৃতায় দেশ ও জাতির সেবায় জামায়াতের কর্মীদের আত্মনিবেদিত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "জামায়াত যদি আল্লাহর ইচ্ছা এবং জনগণের ভালোবাসায় দেশের মানুষের সেবা করার সুযোগ পায়, তাহলে আমরা মালিক হব না, সেবক হব, ইনশা আল্লাহ।"
তিনি তার কর্মীদের দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার কঠোর নির্দেশনা দিয়ে বলেন, "চাঁদা আমরা নেব না, দুর্নীতি আমরা করব না। চাঁদা আমরা নিতে দেব না, দুর্নীতি সহ্য করব না।"
উল্লেখ্য, ডা. শফিকুর রহমান এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো জামায়াতে ইসলামীর আমির হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। এর আগে তিনি ২০১৯ সালে প্রথম এবং ২০২৩ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে দলের আমির নির্বাচিত হন। তার আবেগাপ্লুত শপথ গ্রহণ দলের কর্মীদের মাঝে এক মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। কেউ কেউ এটিকে দায়িত্বের প্রতি তার বিনয় ও গভীর নিষ্ঠার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার কষ্ট ও চ্যালেঞ্জের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলসহ দলের বিভিন্ন স্তরের শীর্ষ নেতারা।
ইএইচ