বহু বছর পর নিজ এলাকায় প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের জনসংযোগ কর্মসূচি পরিণত হয়েছে উৎসবমুখর জনসমাগমে।
বুধবার টৈটং থেকে শিলখালী, বারবাকিয়া থেকে রাজাখালী পুরো দিনজুড়ে ছিল নেতাকে ঘিরে মানুষের উচ্ছ্বাস। দীর্ঘ সময় পরে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় পরিবেশে বক্তব্য দিতে পারায় তিনি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে অতীতের অভিজ্ঞতা ও বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরেন।
পথসভাগুলোর একাধিকটিতে সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেন, অতীত সরকার আমলে তিনি গুম হওয়ার শিকার হয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য, আমাকে নিখোঁজ করার উদ্দেশ্য ছিল স্থায়ীভাবে সরিয়ে দেওয়া। আল্লাহ আমাকে জীবন দিয়েছেন, আর আপনাদের দোয়া আমাকে ফিরিয়ে এনেছে। আজ ১৪ বছর পর মুক্ত পরিবেশে আপনাদের সামনে দাঁড়াতে পারছি এটাই আমার বড় প্রাপ্তি।
বক্তব্যে তিনি কারও বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুললেও সেটিকে রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই উপস্থাপন করেছেন। তিনি বলেন, গুম ও নির্যাতনের রাজনীতি জনগণ শেষ করে দিয়েছে। অন্যায় করে কেউ টিকতে পারে না। দেশের মানুষ তার জবাব দিয়েছে।
পাঁচ দিনের সফরের দ্বিতীয় দিনে সকাল থেকে পেকুয়া ও চকরিয়ার বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগে বের হন সালাহউদ্দিন আহমদ। শুরুতেই তিনি পারিবারিক কবরস্থানে গিয়ে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন। এরপর সাঁকোরপাড়, শিলখালী, জারুলবনিয়া, মাঝেরঘোনা, ধনিয়াকাটা, বনকানন, টৈটং বাজারসহ অন্তত দশটির বেশি স্থানে পথসভায় অংশ নেন।
স্থানীয়রা নেতার সঙ্গে দেখা করতে সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ান। বহু পরিবার ঘর থেকে বেরিয়ে এসে তাকে শুভেচ্ছা জানান। বিএনপি সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ গ্রামবাসীরও উপস্থিতি লক্ষণীয় ছিল।
এক পথসভায় তিনি বলেন, ধানের শীষ শুধু একটি রাজনৈতিক প্রতীক নয়; এটি জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার প্রতীক। আর খালেদা জিয়া সার্বভৌমত্বের প্রতিচ্ছবি। তিনি দলীয় চেয়ারপারসনের অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে সকলের কাছে দোয়া চান।
২০০৮ সালের নির্বাচনের কথা স্মরণ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তাঁর অনুপস্থিতিতে স্থানীয় মানুষ তাঁর স্ত্রী হাসিনা আহমদকে ভোট দিয়ে সংসদে পাঠিয়েছিলেন। এই ঋণ আমি কোনোদিন শোধ করতে পারব না। মানুষের ভালোবাসা জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ বলেন তিনি।
তার সঙ্গে সফররত ছিলেন তার স্ত্রী ও সাবেক এমপি হাসিনা আহমদ, উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়েছে, এমন দাবি করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন যে, ভোটের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে ধীরে ধীরে। তাঁর ধারণা, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে এবং জনগণ এবার স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।
তিনি বলেন, গণতন্ত্রের লড়াই সহজ ছিল না। আন্দোলনে বহু ত্যাগ আছে। আমরা যে পথ ধরেছি, তাতে জনগণের ভোটের অধিকার পুরোপুরি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সময়ের ব্যাপারমাত্র।
বিভিন্ন পথসভায় তিনি জনগণের কাছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সালাম পৌঁছে দেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাবে। আমরা চাই একটি আধুনিক, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র।
গণসংযোগে অংশ নেওয়া স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘদিন পর এলাকায় রাজনৈতিক কার্যক্রম জোরদার হওয়ায় জনমনে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। অনেকে আশা করছেন, নির্বাচনের পরিবেশ স্বাভাবিক থাকলে এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ এলাকার মানুষ উন্নয়ন চায়, নিরাপত্তা চায়, নিজের মত প্রকাশের অধিকার চায়। নির্বাচিত হতে পারলে এলাকার প্রতিটি ইউনিয়নে সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হবে।
দিন শেষে টৈটংয়ের আরবশাহ বাজারে শেষ পথসভায় তিনি বলেন, এই দেশ আমার প্রাণের অংশ। মানুষের ভালোবাসাই আমাকে ফিরিয়ে এনেছে। আপনাদের পাশে থাকাই আমার রাজনীতির উদ্দেশ্য। সেখানে উপস্থিত হাজারো মানুষ তাকে হাত নেড়ে সমর্থন জানায়।
জেএইচআর