নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রাক্কালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে বড় বার্তা দিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা কর্মসূচি’ শীর্ষক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।
উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে যেহেতু বাংলাদেশের সব কর্মী ও নেতৃবৃন্দ এখানে উপস্থিত আছেন আমি আপনাদের জানাতে চাই, খুব শিগগিরই আমাদের নেতা দেশে আসবেন। আমাদের নেতা যেদিন বাংলাদেশে পা দেবেন, সেদিন যেন সমগ্র বাংলাদেশ কেঁপে ওঠে। সেইদিন আমরা গোটা বাংলাদেশের চেহারা বদলে দিতে চাই।
তিনি উল্লেখ করেন যে, তারেক রহমানের আধুনিক চিন্তাভাবনার মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় বিএনপি। বর্তমান সময়কে নির্বাচনের মাধ্যমে জয়ের সংগ্রাম হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, বিজয় লাভ করতে হবে যাতে বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাই। অনেক বাধা, বিপত্তি ও প্রচারণা আসবে, তবে সব কাটিয়ে আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াব। বিএনপি কোনোদিন পরাজিত হয়নি, হবে না।
১৯৭১ সালের প্রজন্ম নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্যের সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, ১৯৭১ সাল আমাদের অস্তিত্ব। অথচ আজ পত্রিকায় দেখলাম কেউ কেউ বলছেন ১৯৭১ সালের প্রজন্ম নাকি নিকৃষ্টতম। কোন সাহসে তারা এমন কথা বলার দুঃসাহস দেখান? তিনি আরও সতর্ক করে বলেন যে, অন্য কোনো রূপ ধরে ফ্যাসিবাদ বা অন্ধকারের কালো থাবা যাতে দেশের মানুষের ওপর চেপে বসতে না পারে, সে বিষয়ে রুখে দাঁড়াতে হবে। ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দলীয় পরিকল্পনাগুলো শুধু নোট নিলেই হবে না, বরং সেগুলো জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে হবে। জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জনই হবে মূল লক্ষ্য। একইসাথে তিনি দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চান।
‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ কর্মসূচির বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। উল্লেখ্য, এই কর্মসূচির বিকেলের অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখবেন তারেক রহমান।
জেএইচআর