মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দেশের সব মানুষকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
মঙ্গলবার সকালে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এই শুভেচ্ছা জানান।
তিনি বলেন, “মহান বিজয় দিবসের প্রাক্কালে আমি দল, মত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে বাংলাদেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ, প্রতিটি নাগরিককে জানাই মহান বিজয় দিবসের আন্তরিক শুভেচ্ছা।”
বিজয় দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে তারেক রহমান ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরে বিজয় অর্জনের কথা স্মরণ করে স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারকারী মা-বোনদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সশ্রদ্ধ সালাম জানান। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ডাকে শুরু হওয়া স্বাধীনতাযুদ্ধ ওই বছর পাক হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করার মাধ্যমে বিজয় অর্জিত হয়। তাই ১৬ ডিসেম্বর জাতির অহংকার, আনন্দ আর বেদনার এক মহাকাব্যিক দিন।
তিনি অভিযোগ করেন, শোষণমুক্ত ও সামাজিক ন্যায়বিচার ভিত্তিক গণতান্ত্রিক নীতিমালার ওপর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় থাকলেও অমানবিক ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠী বারবার সেই প্রত্যয়কে মাটিচাপা দিয়ে সর্বনাশা দুঃশাসন জনগণের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দিয়েছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ১৯৭১-এ প্রিয় মাতৃভূমি শত্রুমুক্ত হলেও চক্রান্তকারীদের নীলনকশা এখনও চলমান। আগ্রাসী শক্তির এদেশীয় এজেন্টরা স্বাধীনতা বিপন্ন করার চক্রান্তজাল বুনছে এবং ১৬ বছর ধরে প্রহসনের একতরফা নির্বাচন করে জনমতকে তাচ্ছিল্য করেছে।
তিনি আরও বলেন, ক্ষমতা জবরদখলকারীরা জনগণের ওপর নৃশংস আক্রমণ চালিয়ে অসংখ্য মানুষকে অদৃশ্য ও হত্যা করে এবং লাখ লাখ মানুষকে মিথ্যা মামলায় কারারুদ্ধ করে।
তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্রকে বিপদমুক্ত করতে মহান বিজয় দিবসের প্রেরণায় বলীয়ান হয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ে ওঠে এবং ২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার দুনিয়া-কাঁপানো আন্দোলনে তারা পরাজিত হয় এবং একনায়কের পতন হয়।
তিনি আহ্বান জানান, এই মুহূর্তে নির্বিঘ্নে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জনকল্যাণমুখী জবাবদিহিমূলক সরকার গঠনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। বৈষম্যহীন বাংলাদেশের জন্য এই বিজয়ের দিনে আমাদের অঙ্গীকার হোক “আমরা বিভাজন ভুলে, হিংসা ভুলে মানুষ হিসেবে মানুষের পাশে থাকবো।”
ইএইচ