বাংলাদেশে উগ্র ডানপন্থি গোষ্ঠীর ধ্বংসাত্মক ও নৈরাজ্যকর রাজনীতির মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে জনগণকে সতর্ক করেছেন সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।
শুক্রবার সকালে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি মন্তব্য করেন, বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে অতি ডানপন্থি রাজনীতির উত্থান রোধ করা এখন জরুরি জাতীয় দায়িত্ব। একই সাথে তিনি গণমাধ্যম কার্যালয়ে হামলা এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক নূরুল কবিরকে হেনস্তার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।
জনগণকে সতর্ক করে মাহফুজ আলম বলেন, “বাংলাদেশের জনগণকে আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা কোনো ফাঁদে পা দেবেন না। পুরোনো সহিংস রাজনৈতিক বন্দোবস্ত থেকে বেরিয়ে এসে স্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণে সব দেশপ্রেমিক ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”
তিনি কূটনৈতিক স্থাপনা, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান এবং দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো কার্যালয়ে হওয়া বর্বর হামলাকে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি মনে করেন, গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বরদের ওপর উসকানি দেশের জন্য অমঙ্গলজনক।
পোস্টে তিনি গত সোমবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দেওয়া নিজের একটি বিতর্কিত বক্তব্যের ব্যাখ্যা প্রদান করেন এবং এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। মাহফুজ আলম বলেন, “শহীদ মিনারে করা আমার একটি মন্তব্যের প্রকৃত উদ্দেশ্য তুলে না ধরে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সেই বক্তব্যটি অনুভূতির স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশ এবং রূপক অর্থেই বলা হয়েছিল। আমার সেই বক্তব্যে কেউ মর্মাহত হয়ে থাকলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।” উল্লেখ্য, ওই বক্তব্যে তিনি জুলাই আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা হলে পাল্টা আক্রমণের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শুরু থেকেই তিনি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ, পুনর্গঠন এবং সহাবস্থানের রাজনীতির পক্ষে লড়াই করে আসছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, জুলাই বা দেশপ্রেমের নামে কোনো ধরনের নৈরাজ্যকর প্রচেষ্টাকে তিনি বৈধতা দেবেন না। বিশৃঙ্খলা নয়, বরং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমেই শহীদ ওসমান হাদির চেতনাকে সম্মান জানানো সম্ভব বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
মাহফুজ আলম সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। এই সংকটময় মুহূর্তে ঢাকা-৮ আসনের শহীদ নেতা ওসমান হাদির আদর্শকে ধারণ করে সবাইকে ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শনের অনুরোধ করেন তিনি।
ইএইচ