শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির (ওসমান হাদি) মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ জনতার হামলা ও অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো ভবন পরিদর্শন করেছেন গণতান্ত্রিক সংস্কার জোটের শীর্ষ নেতারা।
শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তারা রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত গণমাধ্যম দুটির কার্যালয়ে যান।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম এবং এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।
পরিদর্শন শেষে নেতৃবৃন্দ এই হামলাকে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, "নীতি বা আদর্শের ভিন্নতা থাকলেও কোনো প্রতিষ্ঠানে হামলা গ্রহণযোগ্য নয়। হাদি ভাই নিজে প্রতিষ্ঠান গড়ার লড়াই করেছেন। প্রশাসনের ভেতরে এখনো ফ্যাসিবাদের দোসররা রয়ে গেছে, যারা এই হামলা থামানোর চেষ্টা করেনি।"
তিনি আরও যোগ করেন, সংস্কার ও বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতেই এই নাশকতা চালানো হয়েছে।
হাদি হত্যার বিচার ও গতকালের নাশকতায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, "পরিস্থিতি সামলাতে ব্যর্থ হওয়ায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নৈতিকভাবে তার পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন।"
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু সরকারের গাফিলতির কঠোর সমালোচনা করে বলেন, "হামলার আগে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাব ছিল সরকারের চরম ব্যর্থতা।" রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের হাসনাত কাইয়ুম বিষয়টিকে 'অশনিসংকেত' উল্লেখ করে বলেন, "এমন অগ্নিসন্ত্রাস চলতে থাকলে মানুষ পূর্বের শাসনের সাথে তুলনা করতে শুরু করবে, যা নির্বাচনের পরিবেশকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।"
এনসিপির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নিজে একবারও ক্ষতিগ্রস্ত গণমাধ্যমগুলো পরিদর্শনে না আসা তাঁর দায়িত্বহীনতারই বহিঃপ্রকাশ।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরে মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি। তাঁর মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে গতকাল রাতে উত্তেজিত জনতা প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ভবনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। সংস্কার জোটের নেতারা আগামীকাল হাদির জানাজায় যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধে কঠোর নজরদারি ও প্রশাসনিক তৎপরতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
ইএইচ