নির্বাচনী ডামাডোলের মধ্যে দেশের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে। সমমনা দলগুলোর সঙ্গে বিএনপির আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার পর এবার জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির (ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক পার্টি) জোট গঠনের খবর পাওয়া গেছে। যেকোনো সময় এই জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বুধবার সন্ধ্যায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরের বাসায় যান। যদিও একে সৌজন্য সাক্ষাৎ বলা হচ্ছে, তবে নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, সেখানে আসন বণ্টন নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। জানা গেছে, এনসিপি প্রথমে ৫০টি আসন দাবি করলেও শেষ পর্যন্ত ৩০টি আসনে সমঝোতা হয়েছে। শর্ত অনুযায়ী, বাকি ২৭০টি আসনে এনসিপি কোনো প্রার্থী না দিয়ে জামায়াতকে সমর্থন জানাবে।
জামায়াতের অবস্থান ও প্রার্থীর দৌড়ঝাঁপ: জামায়াত সূত্র জানিয়েছে, তারা দুই শতাধিক আসনে নিজেদের প্রার্থী দেবে এবং এনসিপি, এবি পার্টিসহ অন্যান্য মিত্রদের জন্য প্রায় ৮০টি আসন ছেড়ে দেবে। তবে আসন বণ্টনের ক্ষেত্রে দলটির পক্ষ থেকে তিনটি জরিপের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নিশ্চিত পরাজয় হতে পারে এমন আসনে কাউকে ছাড় না দেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় জামায়াত।
এই জোট গঠনের খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ ঢাবি শাখার আহ্বায়ক আবদুল কাদের। বৃহস্পতিবার সকালে ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি একে ‘তরুণ রাজনীতির কবর’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেন, “সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে কিছু নেতার স্বার্থ হাসিলে এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য ও দলীয় সূত্র অনুযায়ী, জোটের অংশ হিসেবে জামায়াত এনসিপিকে প্রতিটি আসনের জন্য ১.৫ কোটি টাকা নির্বাচনী খরচ প্রদান করবে। এছাড়া আরও একটি চমকপ্রদ তথ্য সামনে এসেছে যে, নির্বাচনে জিতলে নাহিদ ইসলাম প্রধানমন্ত্রী হবেন অথবা বিরোধী দলে গেলে বিরোধী দলীয় নেতার ভূমিকা পালন করবেন। এনসিপির প্রার্থীরা জামায়াতের আবদুল্লাহ তাহের এবং এনসিপির নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর মাধ্যমে চূড়ান্ত হবে।
আসন বণ্টন নিয়ে টানাপোড়েন চলছে চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন (১০০ আসন দাবি) এবং মামুনুল হকের খেলাফত মজলিসের (২৫ আসন দাবি) সাথেও। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত ও এনসিপির এই জোট নির্বাচনী সমীকরণকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে।
জেএইচআর