মুখ খুললেন এনসিপির সামান্তা, নুসরাত ও মিতু

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৭, ২০২৫, ০৯:৫৩ পিএম

নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ আর অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের জেরে সংকটে পড়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ (এনসিপি)। 

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আসন সমঝোতার আলোচনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা পদত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন।

শনিবার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ বিবৃতির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানান তিনি। 

তাসনিম জারা বলেন, “খিলগাঁওয়ের সন্তান হিসেবে নিজ এলাকার মানুষের সেবা করা আমার আজীবনের স্বপ্ন। তবে বাস্তবিক প্রেক্ষাপটের কারণে আমি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা জোটের হয়ে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ার যে প্রতিশ্রুতি আমি দিয়েছিলাম, তা রক্ষায় আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ব।” 

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১০ ডিসেম্বর এনসিপি ঘোষিত ১২৫ জনের প্রার্থী তালিকায় ঢাকা-৯ আসনের জন্য তার নাম প্রকাশ করা হয়েছিল।

এনসিপিতে এই অস্থিরতা কেবল তাসনিম জারার পদত্যাগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। দলটির অন্তত ৩০ জন কেন্দ্রীয় সদস্য জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আসন সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়ে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে নেতারা জামায়াতের সাথে জোট করাকে ‘গণতান্ত্রিক নৈতিকতা ও জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এই ঘটনার সমান্তরালে এনসিপির আরও কয়েকজন শীর্ষ নারী নেত্রীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন লিখেছেন, “আমরা লড়াই ছাড়ব না। আল্লাহ সহায়।” 

যুগ্ম সদস্যসচিব নুসরাত তাবাসসুম তার পোস্টে নৈতিকতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে লিখেছেন, “নীতির চাইতে রাজনীতি বড় নয়।” 

অন্যদিকে ডা. মাহমুদা মিতু নাম উল্লেখ না করে বিদেশি এজেন্ডা ও রাজনৈতিক ভন্ডামির বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

নির্বাচন সামনে রেখে এনসিপির ভেতরে আদর্শিক ও কৌশলগত এই বিভাজন দলটির সাংগঠনিক ঐক্যের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইএইচ