বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো সমঝোতা বা জোটে গেলে জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) ‘কঠিন মূল্য’ চুকাতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন।
রোববার সকালে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই সতর্কবার্তা দেন। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির আসন সমঝোতা নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই তার এই কড়া মন্তব্য দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে আরও স্পষ্ট করে তুলল।
সামান্তা শারমিন তার পোস্টে লেখেন, “বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কোনো নির্ভরযোগ্য মিত্র নয়। তাদের রাজনৈতিক দর্শন ও অবস্থানের সঙ্গে সমঝোতা করা এনসিপির জন্য আত্মঘাতী হবে।”
তিনি উল্লেখ করেন যে, এনসিপি মূলত বিচার, সংস্কার ও গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ বা দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র গঠনের অঙ্গীকার নিয়ে গড়ে উঠেছে। জামায়াতের মূলনীতি ও রাষ্ট্রকল্প এনসিপির আদর্শ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হওয়ায় যেকোনো রাজনৈতিক মিত্রতার জন্য অভিন্ন অবস্থান থাকা আবশ্যক বলে তিনি মনে করেন।
এনসিপির এই শীর্ষ নেত্রী আরও অভিযোগ করেন যে, জামায়াতে ইসলামী সংস্কার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, “এনসিপির আহ্বায়ক আগে বলেছিলেন, যারা সংস্কারের পক্ষে নয় তাদের সঙ্গে জোট সম্ভব নয়। তাই জুলাই পদযাত্রার পর ৩০০ আসনেই একক প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। জামায়াতের সঙ্গে জোট করা মানেই বিএনপির পক্ষে যাওয়া নয়, বরং এনসিপির নিজস্ব সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক পলিসি রক্ষা করা।”
উল্লেখ্য, এর আগে শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) এনসিপির ৩০ জন কেন্দ্রীয় নেতা জামায়াতের সঙ্গে জোটের বিরোধিতা করে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে চিঠি দিয়েছিলেন। একই দিনে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা দল থেকে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্র নির্বাচনের ঘোষণা দেন। নির্বাচন সামনে রেখে এনসিপির ভেতরে আদর্শিক এই লড়াই দলটিকে এখন এক বড় ভাঙনের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
ইএইচ