বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তাঁর মৃত্যুতে কেবল বাংলাদেশের রাজনীতিতেই নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এক বিশাল শূন্যতা সৃষ্টি হলো।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে আয়োজিত এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল অত্যন্ত আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আমাদের জাতীয় অভিভাবক এবং গণতন্ত্রের মা। তিনি তার সমগ্র জীবন উৎসর্গ করেছিলেন জনগণের কল্যাণে। এই অপূরণীয় ক্ষতি এই জাতি কখনো পূরণ করতে পারবে না।”
তিনি জানান, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ইতোমধ্যেই তাকে ফোন করে সমবেদনা জানিয়েছেন এবং সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর শেষ বিদায় ও দাফন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার জন্য বিশেষ মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকেছেন।
সকাল সাড়ে ১০টায় অনুষ্ঠিতব্য ওই বিশেষ ক্যাবিনেট মিটিংয়ে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা, দাফন এবং তাকে যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সরকারের সাথে সমন্বয় করে পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানান বিএনপি মহাসচিব।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, হৃদরোগ, কিডনি ও ফুসফুসের জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। গত ২৩ নভেম্বর হাসপাতালে ভর্তির পর আজ ভোর ৬টায় তাঁর জীবনাবসান হয়।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। তার মৃত্যুতে রাজপথের লড়াকু এক ‘আপসহীন’ নেত্রীর চার দশকের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল।
১৯৪৫ সালে জন্ম নেওয়া খালেদা জিয়া ১৯৮১ সালে স্বামী জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর রাজনীতিতে যোগ দেন এবং স্বৈরশাসন বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে হয়ে ওঠেন গণমানুষের কণ্ঠস্বর। ১৯৯১ সালে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং এ পর্যন্ত কোনো নির্বাচনেই পরাজয় বরণ করেননি।
ইএইচ