খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সংবাদে এভারকেয়ারে কান্নায় ভেঙে পড়লেন নেতাকর্মীরা

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫, ১১:৩১ এএম

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ভিড় জমিয়েছেন হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক। 

মঙ্গলবার ভোর ৬টায় তাঁর মৃত্যুর খবর আসার পর থেকে সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নেতাকর্মীদের এই ভিড় জনসমুদ্রে রূপ নিয়েছে।

হাসপাতাল এলাকার সড়কের উভয় পাশে নেতাকর্মীদের বিশাল উপস্থিতির কারণে যান চলাচল সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও দলীয় স্বেচ্ছাসেবীরা। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে হাসপাতাল ও এর আশপাশের এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালের বৈধ কার্ডধারী ছাড়া কাউকেই ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

সকাল থেকেই হাসপাতালে আসা নেতাকর্মীদের মধ্যে শোকের মাতম দেখা গেছে। প্রিয় নেত্রীকে হারানোর বেদনায় অনেককে অঝোরে কাঁদতে দেখা যায়। বাড্ডার খিলবাড়ির টেক এলাকা থেকে ছুটে আসা মহিলা দল নেত্রী আয়েশা আক্তার বলেন, “সকালে ঘুম থেকে উঠেই এই দুঃসংবাদ পাই। মনকে কোনোভাবেই শান্ত করতে পারছিলাম না, তাই শেষবারের মতো নেত্রীকে দেখতে দ্রুত এখানে চলে এসেছি।”

নেতাকর্মীরা বলছেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অবিসংবাদিত নেত্রী। জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে তাঁর বেঁচে থাকা অত্যন্ত জরুরি ছিল। অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত সরকারের সময় সঠিক চিকিৎসার অভাবে তিনি দীর্ঘকাল অসুস্থ ছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে আমাদের মাঝ থেকে বিদায় নিলেন।

মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৯ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন রাজনীতিতে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত এই মহীয়সী নারী। বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসনের এই প্রয়াণে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি বিশাল যুগের অবসান হলো। 

গণতন্ত্র, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষার সংগ্রামে তাঁর আপসহীন ভূমিকা বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

জেএইচআর