নাহিদ ইসলামের বার্ষিক আয় নিয়ে বিতর্ক, যে ব্যাখ্যা দিল এনসিপি

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জানুয়ারি ২, ২০২৬, ১০:৪২ এএম
নাহিদ ইসলাম (ফাইল ছবি)

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১১ আসন থেকে ভোট করবেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এ লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনে দেওয়া তার হলফনামায় উল্লেখ করা করা হয়, তিনি পরামর্শ দিয়ে বছরে আয় করেন ১৬ লাখ টাকা।

তবে পরামর্শ দিয়ে মাসে ১৬ লাখ টাকা আয় করা নিয়ে ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ বিতর্ক লক্ষ্য করা গেছে। তাছাড়া নির্বাচনী হলফনামায় নাহিদ ইসলামের পেশা হিসেবে পরামর্শক উল্লেখ করা হলেও অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষকতা করে বছরে এত টাকা আয় করা কীভাবে সম্ভব? এসব বিতর্ক এবং অপতথ্যের জবাব দিয়েছে এনসিপি। 

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব তামীম আহমেদের সই করা বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়, নির্বাচনি হলফনামার ৪ নম্বর কলামে স্পষ্টত নাহিদের বর্তমান পেশা হিসেবে পরামর্শক এবং পূর্বতন পেশা হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টা পদ উল্লেখ করা আছে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের আয়কর রিটার্ন কিংবা নির্বাচনি হলফনামার কোথাও তার পেশা শিক্ষকতা দেখানো হয়নি বলেও জানিয়েছে দলটি। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদকে স্পষ্টতই অপতথ্য হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

আর হলফনামায় নাহিদের ৩২ লাখ টাকার মোট সম্পত্তি নিয়েও কিছু বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ দলটির।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, নাহিদ ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে উপদেষ্টা থেকে পদত্যাগ করার সময় তার সোনালী ব্যাংকের একটিমাত্র একাউন্টে ১০ হাজার ৬৯৮ টাকা জমা ছিল বলে পাবলিক পোস্টে জানিয়েছিলেন।

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, সে একই একাউন্টে তার বর্তমান জমার পরিমাণ ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৩৬৩ টাকা ৫৭ পয়সা। সোনালী ব্যাংকের এই একটি মাত্র অ্যাকাউন্ট এবং নির্বাচনি ব্যয় নির্বাহের জন্য ২৮ ডিসেম্বরে সিটি ব্যাংকে খোলা একাউন্টটি ছাড়া বর্তমানে নাহিদ ইসলামের আর কোনও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পদে থাকাকালীন বেতন-ভাতা থেকে নাহিদ ইসলামের মোট আয় ছিল ১১ লাখ ৩৬ হাজার ৭৯ টাকা।

সাত মাস উপদেষ্টা পদে থেকে গড়ে মাসিক ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা হিসেবে তিনি এই অর্থ আয় করেন। উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করার পর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পরামর্শক হিসেবে মাসিক এক লাখ টাকা সম্মানিতে কাজ শুরু করেন।

সে হিসেবে গত অর্থ বছরে উপদেষ্টা পদে থেকে এবং পরামর্শক পেশার আয় থেকে মোট ১৬ লাখ টাকা আয় করেন এবং ২০২৪-২৫ আয়বর্ষে তার আয়ের ওপর সর্বমোট ১ লাখ ১৩ হাজার ২৭৪ টাকা আয়কর পরিশোধ করেন। এসব তথ্য তার আয়কর রিটার্নে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে হলফনামায় নাহিদ ইসলামের বার্ষিক আয়ের পরিমাণ ১৬ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়।

হলফনামায় নাহিদ ইসলামের বর্তমান সম্পত্তির পরিমাণ উল্লেখ করা ৩২ লাখ ১৬ হাজার ১২২ টাকা; যা তার উপদেষ্টা এবং পরামর্শক পদে থেকে আয়, হাতে থাকা নগদ অর্থ, ইতঃপূর্বে করা সেভিংস, বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং বিয়েতে আত্মীয় স্বজন থেকে প্রাপ্ত আর্থিক এবং স্বর্ণালংকারের উপহারের বর্তমান বাজার মূল্যের সমষ্টি।

আয়কর রিটার্ন কিংবা নির্বাচনি হলফনামার কোথাও নাহিদ ইসলামের পেশা শিক্ষকতা দেখানো হয়নি।

এএন