ঢাকায় জামায়াত মনোনীত ১৭ প্রার্থীর ১৩ জনই কোটিপতি

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জানুয়ারি ৫, ২০২৬, ০১:০৭ পিএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকার ২০টি আসনের মধ্যে ১৭টি আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীরা। তবে মনোনয়নপত্র দাখিল করা ১৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৩ জনই কোটিপতি; অর্থাৎ তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মূল্য কোটি টাকা বা তার থেকেও বেশি। 

এ আসনগুলোতে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের নির্বাচনী হলফনামা বিশ্লেষণ করে তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ, বাৎসরিক আয়, ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ ও মোট সম্পদের পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়। 

নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, ঢাকার আসনগুলোতে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্পদ রয়েছে ঢাকা-৭ (চকবাজার, বংশালসহ পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকা) আসনের প্রার্থী মো. এনায়েত উল্লার। তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে প্রায় ১১৬ কোটি টাকা। অবশ্য ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণও তাঁর বেশি, প্রায় ৮৩ কোটি টাকা।

সম্পদের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী এস এম খালিদুজ্জামান। তাঁর অস্থাবর সম্পদ প্রায় ৪ কোটি ৮২ লাখ টাকার। এর মধ্যে বন্ড, ঋণপত্র ও শেয়ার আছে ২ কোটি ২৫ লাখ টাকার। সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী আমানত আছে প্রায় ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকার। 

ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মীর আহমাদ বিন কাসেমের কাছে নগদ অর্থ আছে ১ কোটি ১৩ লাখ ৭৬ হাজার টাকা, যা জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন ঢাকা-১০ আসনের প্রার্থী জসীম উদ্দীন সরকার। তাঁর কাছে রয়েছে প্রায় ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার টাকা। 

এ ছাড়া কুমিল্লার মুরাদনগরে মোট ২৪০ শতাংশ জমি রয়েছে জসীম উদ্দীন সরকারের। যেগুলোকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়ার কথা হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। আর স্থাবর সম্পদের কোনো তথ্য নেই মীর আহমাদ বিন কাসেমের।

তাছাড়া ঢাকায় জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যে ঢাকা-৫ আসনের মোহাম্মদ কামাল হোসেন, ঢাকা-৬ আসনের মো. আবদুল মান্নান, ঢাকা-১৯ আসনের মো. আফজাল হোসাইন ও ঢাকা-২০ আসনের মো. আবদুর রউফের সম্পদ কোটি টাকার কম।

সম্পদ সবচেয়ে কম ঢাকা-১৯ আসনে (সাভার, আশুলিয়া প্রভৃতি এলাকা) জামায়াতের প্রার্থী মো. আফজাল হোসাইনের। মূল্য ১৯ লাখ ৩৯ হাজার। যদিও হলফনামায় তিনি পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ৫২ শতাংশ কৃষিজমি ও হেবা (দান) সূত্রে পাওয়া ২৪ শতাংশ জমি ও তার ওপরে বাড়ির মূল্য উল্লেখ করেননি। 

হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা-১৫ আসনে নির্বাচন করবেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তাঁর সম্পদের পরিমাণ প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের। কোটিপতি অন্য প্রার্থীরা হলেন ঢাকা-১ আসনে মোহাম্মাদ নজরুল ইসলাম, ঢাকা-২ আসনে মো. আবদুল হক (বাছাইয়ে মনোনয়নপত্র বাতিল, আপিলের সুযোগ আছে), ঢাকা-৩ আসনে মো. শাহীনুর ইসলাম, ঢাকা-৪ আসনে সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, ঢাকা-৭ আসনে মো. এনায়াত উল্লাহ, ঢাকা-৯ আসনে কবির আহমদ, ঢাকা-১০ আসনে জসীম উদ্দীন সরকার, ঢাকা-১২ আসনে মো. সাইফুল আলম, ঢাকা-১৪ আসনে মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান), ঢাকা-১৬ আসনে মো. আবদুল বাতেন, ঢাকা-১৭ আসনে স ম খালিদুজ্জামান ও ঢাকা-১৮ আসনে মুহাম্মদ আশরাফুল হক।

এছাড়া, অস্থাবর সম্পদ সবচেয়ে কম ঢাকা-৫ আসনের প্রার্থী কামাল হোসেনের। তাঁর অস্থাবর সম্পদ রয়েছে ৩ লাখ ৩৯ হাজার টাকার।

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যে বছরে সবচেয়ে বেশি, ৬ কোটি ৮৬ লাখ ৩৫ হাজার টাকা আয় করেন এনায়েত উল্লাহ। তিনি ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) ২০২৩-২৫ মেয়াদে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়ে তিনি পরিচালক (অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ) হয়েছিলেন। তিনি পুরান ঢাকার মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ছিলেন এবং বাংলাদেশ পাইকারি গরম মসলা ব্যবসায়ী সমিতির বর্তমান সভাপতি।

আয়ের দিক দিয়ে দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছেন স ম খালিদুজ্জামান (ঢাকা-১৭)। তাঁর বছরে আয় প্রায় ৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। এ ছাড়া কবির আহমদ প্রায় ৩৮ লাখ টাকা, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন প্রায় ২৫ লাখ টাকা, মুহাম্মদ আশরাফুল হক ২৩ লাখ টাকা, জসীম উদ্দীন সরকার ২১ লাখ টাকা, আবদুল বাতেন বছরে ১৬ লাখ টাকা এবং মীর আহমাদ বিন কাসেম আনুমানিক ১১ লাখ টাকা আয় করেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। অন্যদের বছরে আয় আট লাখে টাকার কম।

ঢাকায় জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে কম আয় ঢাকা-১২ আসনের (তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, শেরেবাংলা নগর ও রমনার একাংশ) মো. সাইফুল আলমের। তিনি বছরে আয় করেন এক লাখ টাকার কিছু বেশি, মাসে প্রায় সাড়ে আট হাজার টাকা।

আয়ের উৎস জমি বিক্রয় উল্লেখ করলেও পরিমাণ উল্লেখ করেননি ঢাকা-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী নজরুল ইসলাম। তবে আয়কর বিবরণীতে তিনি ২০২৫-২৬ করবর্ষে ৬০ লাখ টাকা আয় দেখিয়েছেন। আয়ের উৎসের অংশ ফাঁকা রেখেছেন ঢাকা-৫ আসনের কামাল হোসেনও। তবে আয়কর বিবরণীতে তিনি ২০২৫-২৬ করবর্ষে ৫ লাখ ৪৬ হাজার টাকা আয় দেখিয়েছেন।

এএন