শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে কেবল একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলরের নির্দেশে খুন করা হয়েছে একথা পাগলেও বিশ্বাস করবে না বলে মন্তব্য করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের।
তিনি দাবি করেছেন, এই হত্যাকাণ্ডের সাথে একটি বিশাল চক্র জড়িত। ডিবি পুলিশের দাখিল করা এই অভিযোগপত্র তারা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি শেষে আবদুল্লাহ আল জাবের এসব কথা বলেন।
অভিযোগপত্রের বিষয়ে তিনি বলেন, “সরকার বলেছে একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর নাকি ওসমান হাদিকে গুলি করার নির্দেশ দিয়েছে এবং ফয়সাল করিম মাসুদ সেই খুনে অংশ নিয়েছে। এটা অবিশ্বাস্য। ওসমান হাদিকে হত্যার সাথে একটি পুরো খুনি চক্র জড়িত। তাদের বিচারের মুখোমুখি না করা পর্যন্ত আমাদের লড়াই থামবে না। যে চার্জশিটে মূল হোতাদের নাম নেই, আমরা সেই চার্জশিট মানি না।”
এর আগে, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পির পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় হাদিকে হত্যা করা হয়।
এ বিষয়ে জাবের বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে বিচার নিশ্চিতের বার্তা দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সরকার দাখিল করা অভিযোগপত্রের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে যে তারা জনগণকে বোকা মনে করছে।”
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হাদি হত্যার সঠিক বিচার না হলে জনগণই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। প্রয়োজনে আইন উপদেষ্টা ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবিতে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও তিনি জানান।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকাল থেকে রাত আটটা পর্যন্ত ঢাকার ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি পালন করেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। শাহবাগ থেকে শুরু করে সায়েন্স ল্যাব, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, উত্তরা, বাড্ডা ও যাত্রাবাড়ী হয়ে পুনরায় শাহবাগে এসে তাদের এই কর্মসূচি শেষ হয়।
কর্মসূচির মাঝে তারা রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে গিয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের কবর জিয়ারত করেন।
শাহবাগে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে সদস্য সচিব বলেন, “আমাদের দাবি যৌক্তিক। হাদি হত্যার বিচার না হলে দেশের পতাকা অক্ষুণ্ন থাকবে না।”
ইএইচ